অক্ষয়-সইফের ডেডলি কম্বো নাকি চরম মাথাব্যথা? প্রিয়দর্শনের ‘হেওয়ান’ দেখে মাথায় হাত দর্শকদের!

দেড় দশক পর পর্দায় ফিরল বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অক্ষয় কুমার ও সইফ আলি খান জুটি। তাও আবার প্রিয়দর্শনের মতো প্রথম সারির পরিচালকের হাত ধরে। মালায়লম সুপারহিট ছবি ‘ওপ্পম’-এর অফিশিয়াল রিমেক ‘হেওয়ান’ ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশার পারদ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু ১৬৪ মিনিটের এই দীর্ঘ সিনেমা দেখার পর থ্রিলারের বদলে কেবল হতাশা আর প্রশ্নই জমা হচ্ছে দর্শক মনে—এমন একটা ছবি বানানোর সত্যি কি কোনো প্রয়োজন ছিল?
আশি বা নব্বইয়ের দশকের গতেবাঁধা মেগা-ড্রামার ধাঁচে থ্রিলার বানানোর পুরোনো অভ্যাস এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি পরিচালক প্রিয়দর্শন। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে এহেন ক্লিশে চিত্রনাট্য প্রেক্ষাগৃহে পরিবেশন করাটাকেই বড় রাজনৈতিক বা বিনোদনমূলক কৌতুক বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সমালোচকরা।
এক নজরে ‘হেওয়ান’
মূল ছবি: মালায়লম হিট ‘ওপ্পম’ (রিমেক)
পরিচালনা: প্রিয়দর্শন
প্রধান চরিত্র: সইফ আলি খান (শ্যাম), অক্ষয় কুমার (পরশুরাম), বোমান ইরানি।
দৈর্ঘ্য: ১৬৪ মিনিট (২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট)
‘দেশি ডেয়ারডেভিল’ সইফ ও অদ্ভুত খলনায়ক অক্ষয়
ছবিতে সইফ আলি খান অভিনয় করেছেন ‘শ্যাম’ নামের এক অন্ধ যুবকের চরিত্রে, যে একাধারে কুস্তিগীর, গিটারিস্ট এবং এক বিলাসবহুল আবাসনের কেয়ারটেকার। চোখে দেখতে না পেলেও মার্ভেলের ‘ডেয়ারডেভিল’-এর মতো তাঁর অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা। খুনি কি পিৎজা খেয়েছিল, নাকি অন্য কিছু—গন্ধ শুঁকেই তা ধরে ফেলে এই অতি-মানবীয় অন্ধ চরিত্র! অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের (বোমান ইরানি) খুনের পর তাঁর মেয়েকে বাঁচাতে ময়দানে নামে শ্যাম।
অন্যদিকে, প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকা সিরিয়াল কিলার পরশুরামের চরিত্রে দেখা গেছে অক্ষয় কুমারকে। তবে পুরো ছবিজুড়ে কোনো থ্রিল বা সাসপেন্স তৈরি করতে পারেননি অক্ষয়। চিত্রনাট্যের দুর্বলতায় তাঁর চরিত্রটি এতটাই ভিত্তিহীন যে, খলনায়ক হিসেবে তিনি কেন খুন করছেন—তার যুক্তি খোদ পরিচালকের কাছেও অস্পষ্ট। ক্লাইম্যাক্সে ক্যাথলিক সিস্টারের পোশাক পরে অক্ষয়ের অদ্ভুত অভিনয় দেখে রোমাঞ্চের বদলে হাসি পাওয়াটাই স্বাভাবিক।
| চরিত্রের নাম | অভিনেতা | চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ও খামতি |
| শ্যাম | সইফ আলি খান | অন্ধ হলেও অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার অধিকারী, সইফের অভিনয়ই ছবির একমাত্র প্রাপ্তি। |
| পরশুরাম | অক্ষয় কুমার | দুর্বল ব্যাকগ্রাউন্ডের সিরিয়াল কিলার, অযৌক্তিক ও হাস্যকর দৃশ্যপট। |
| বিচারক | বোমান ইরানি | খুনের মধ্য দিয়েই গল্পের মূল মোড় শুরু হয়। |
সময় নষ্ট নাকি চোখের আরাম?
ছবিতে পুলিশের বোকা বোকা নির্যাতন, অপ্রাসঙ্গিক একাধিক গান এবং দুর্বল লজিক সিনেমার গতিকে ভীষণভাবে মন্থর করেছে। একমাত্র সইফ আলি খানের অভিনয়ই স্ক্রিনে যতটুকু স্বস্তি দেয়। আর একদম শেষে মালায়লম তারকা মোহনলালের ছোট্ট একটা ক্যামিও কিছুটা মানরক্ষা করে মাত্র।
২০০৭ সালের মানানসই একটি চিত্রনাট্যকে ২০২৬ সালে এসে বড় পর্দায় নামানোর এই দুঃসাহস প্রিয়দর্শনের থেকে অন্তত আশা করেননি অনুরাগীরা। ১৬৪ মিনিটের এই দীর্ঘ সফর শেষে সিনেমা হল থেকে বেরোনো দর্শকদের একটাই প্রশ্ন—বলিউডে এত ভালো গল্পের ভিড়ে এই ছবির সত্যিই কি প্রয়োজন ছিল?