ভারতীয় সেনার ‘আকাশ প্রাইম’ মিসাইল পরীক্ষায়, শত্রুপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত দেশীয় মিসাইল

ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে বুধবার (১৬ জুলাই, ২০২৫) এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করল ভারতীয় সেনাবাহিনী। দেশের তৈরি অত্যাধুনিক ‘আকাশ প্রাইম’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ করা হয়েছে লাদাখের ১৫,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতা থেকে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি সম্পন্ন করেছে।

প্রতিরক্ষা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি দুর্গম ও বিরল বায়ুমণ্ডলে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলমান লক্ষ্যবস্তুকে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এই সফল পরীক্ষা প্রমাণ করে যে চরম ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ‘আকাশ প্রাইম’ কতটা কার্যকর। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

‘আকাশ প্রাইম’ ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর তৃতীয় এবং চতুর্থ আকাশ রেজিমেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এর আগেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে, যেখানে এটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চীনা জেট এবং তুর্কি ড্রোনকে সফলভাবে প্রতিহত করেছিল।

এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যাধুনিক ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সিকার’। এই যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুকে সহজেই চিহ্নিত করতে ও নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এছাড়াও, এটি অতি উচ্চতায় এবং অত্যন্ত কম তাপমাত্রাতেও দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারে, যা লাদাখের মতো পার্বত্য অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরীক্ষার সময়, রাডার, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল টার্গেটিং সিস্টেম এবং টেলিমেট্রি স্টেশন-সহ একাধিক রেঞ্জ স্টেশন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ ও উড়ানের সমস্ত ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এই সফল উৎক্ষেপণ ভারতের আত্মনির্ভরশীল প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল এবং শত্রুপক্ষের যেকোনো আকাশপথে হামলা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলল।