হেঁশেলের তিন মশলা নিয়ে গবেষকদের সতর্কতা: অতিরিক্ত ব্যবহারে হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি

সুস্থ থাকতে ঘরোয়া টোটকার অভাব নেই। অনেকেই দাবি করেন, রান্নাঘরের মশলাতেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। তবে এবার সেই হেঁশেলের অতিপরিচিত তিনটি মশলার অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করলেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, যতই ঘরোয়া দাওয়াইয়ের কথা বলা হোক না কেন, এই তিন মশলার অতিরিক্ত ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অফ মিসিসিপির গবেষকরা হলুদ, আদা এবং দারচিনি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন। তাঁদের গবেষণা অনুযায়ী, এই মশলাগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, দারচিনির সুগন্ধ ও স্বাদের মূল কারণ হল Cinnamaldehyde নামক একটি উপাদান। আমরা চা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রান্নায় দারচিনি ব্যবহার করে থাকি। তবে তাঁদের মতে, অতিরিক্ত দারচিনি সেবন করলে শরীরে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এর ফলে, রোগ নিরাময়ের জন্য যে ওষুধ খাওয়া হচ্ছে, তা সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত হলুদ খাওয়া লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। এর আগেও লিভার ফেলিওরের সঙ্গে হলুদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, হলুদের মূল উপাদান Curcumin। এই উপাদানটিই হলুদের রং নির্ধারণ করে। কিন্তু যখন শরীরে হলুদের মাত্রা অতিরিক্ত হয়, তখন তা লিভারের এনজাইমের কার্যকারিতায় বাধা দেয়, যা ওষুধের বিপাকক্রিয়া ঘটায়। শুধু তাই নয়, হলুদের সাথে অতিরিক্ত গোলমরিচ গ্রহণ করলে লিভারের আরও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তবে রান্নায় সামান্য পরিমাণে হলুদ ব্যবহারে তেমন কোনো ঝুঁকি নেই বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।

আদা নিয়েও একইরকম সতর্কতা জারি করেছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত আদা খেলে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে এবং ডায়াবেটিসের ওষুধ শরীরে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে Hypoglycemia হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও, অতিরিক্ত আদা রক্ত পাতলা করতে পারে।

গবেষকরা বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খাচ্ছেন বা কেমোথেরাপির মতো চিকিৎসা নিচ্ছেন, তারা অবশ্যই এই বিষয়ে তাদের চিকিৎসকের সাথে একবার কথা বলে নেওয়া উচিত।

ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য এবং পরামর্শ শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। কোনো স্বাস্থ্যবিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বদা বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং তাঁদের দেওয়া নিয়মাবলী অনুসরণ করুন।