রাতে ঘুমোচ্ছে না শিশু? ইংল্যান্ডের অধ্যাপকের এই পদ্ধতিতেই মিলবে সমাধান!

শিশুদের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু তাদের স্বাস্থ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম উড়ে যায় বাবা-মায়েরও। অনেক বাবা-মা-ই এমন কোনো সহজ সমাধানের খোঁজ করেন যাতে তাদের আদরের সন্তানটি শান্তিতে ঘুমাতে পারে এবং তারাও রাতের বেলা একটু শান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন।
এই সমস্যায় জর্জরিত অভিভাবকদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছেন ইংল্যান্ডের গবেষক অধ্যাপক এলপিক। তিনি শিশুদের ঘুমের প্যাটার্ন উন্নত করার একটি সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। আপনিও জেনে নিতে পারেন সেই কৌশলগুলো:
অধ্যাপক এলপিকের পদ্ধতি অনুসারে, শিশুদের ঘুমের উন্নতি ঘটাতে হলে নিম্নলিখিত নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে:
আলো কমানো: রাতে শিশুকে ঘুমোতে নিয়ে যাওয়ার আগে ঘরের আলো ধীরে ধীরে কমিয়ে দিন। হালকা আলো শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।
স্ক্রিন বন্ধ: ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য সব ধরনের স্ক্রিন বন্ধ করে দিন। স্ক্রিনের আলো মস্তিষ্কের মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়, যা ঘুমের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সৃজনশীল কাজে মনোযোগ: ঘুমোতে যাওয়ার আগে শিশুকে ছবি রঙ করা, ছবি আঁকা অথবা অন্য কোনো হাতের কাজের মতো শান্ত ও সৃজনশীল খেলায় ব্যস্ত করে দিন। এই ধরনের কার্যকলাপ চোখ ও হাতের সমন্বয়কে উন্নত করে এবং মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট বার্তা: প্রতিদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট বাক্য, যেমন ‘শুভ রাত্রি’ বলুন এবং তাকে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত করুন। এই রুটিন শিশুকে মানসিকভাবে ঘুমের জন্য তৈরি হতে সাহায্য করবে।
নিয়মিত রুটিন: এই নিয়মগুলো প্রতিদিন একই সময়ে মেনে চলতে হবে। একটি নির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন তৈরি করলে শিশুর শরীর এবং মন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার জন্য অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।
অধ্যাপক এলপিকের এই পদ্ধতি মেনে চললে আশা করা যায়, আপনার শিশু রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারবে এবং আপনিও রাতের বেলা কিছুটা বিশ্রাম পাবেন। শিশুদের সঠিক ঘুম তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই পদ্ধতি অনুসরণ করে একটি স্বাস্থ্যকর ঘুমের রুটিন তৈরি করা অপরিহার্য।