মেদ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে রুই মাছের ম্যাজিক দেখেনিন আপনিও

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি নিয়ে এখন সবাই সচেতন। রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে প্রোটিনের। প্রোটিন রোগ প্রতিরোধে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। আর প্রোটিনের একটি বড় উৎস হিসেবে দেখা হয় রুই মাছকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুই মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। ফলে খাবার তালিকায় রুই মাছ রাখলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।
ভারতীয় মেডিসিনের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, ‘বাড়ির খাবার ভাত-মাছের ঝোল যদি নিয়মিত খেতে পারেন, এর থেকে ভালো কিছু হতে পারে না। প্রোটিনের উৎস হিসেবে মাছ খাওয়া যেতেই পারে। ডায়েট করছেন যারা, তারাও মাংসের পরিবর্তে রুই মাছ খেতে পারেন।’
পুষ্টিবিদদের মতে, রুই মাছে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় যাদের অতিরিক্ত মেদ রয়েছে, তারা নিয়মিত এই মাছ খেতে পারেন। মাছের তেলে থাকা ওমেগা থ্রি নামক অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড যা রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল এলডিএল ও ভিএলডিএল কমায় এবং উপকারী কোলেস্টেরল এইচডিএলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে হৃদ্যন্ত্রে চর্বি জমতে পারে না। আমেরিকার স্কুল অব নিউট্রিশনের জার্নাল অনুযায়ী, এই মাছ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা কমাতেও সাহায্য করে।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োলজিকাল ইনফরমেশন গণমাধ্যমে জানিয়েছে, ওমেগা থ্রি রক্তের অণুচক্রিকাকে জমাট বাঁধতে দেয় না, ফলে রক্তনালিতে জমাট বাঁধার কারণে স্ট্রোক হতে পারে না। স্ট্রোক প্রতিরোধে রুই মাছের ভূমিকার কথা উল্লেখ রয়েছে বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্রেও।
পুষ্টিবিদ সোমা চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, ভালো মানের প্রোটিনের অন্যতম উৎস এই মাছ।
কী কী থাকে এই মাছে
১. ভিটামিন এ, ডি, ই রয়েছে রুই মাছে।
২. ক্যালসিয়াম, জিংক, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, লোহা-খনিজে ভরপুর এই মাছ।
এই পুষ্টিবিদের মতে, ‘‘রুই মাছে কোলিন নামের একটি পদার্থ থাকে। এই এসেনশিয়াল নিউট্রিয়েন্টসটি সম্প্রতি আবিষ্কার হয়েছে, এটি ডিএনএ সংশ্লেষে সাহায্য করে। স্নায়ুতন্ত্র, ফ্যাটের বিপাক ক্রিয়া এবং পরিবহনে সাহায্য করে।’’
কি পরিমাণে খেতে হবে এই মাছ?
ব্যালান্সড ডায়েট বা ভারসাম্য রেখে খাওয়ার বিষয়ে জোর দিতে বলছেন এই পুষ্টিবিদ। তার মতে, ৫০-৭৫ গ্রাম মাছ প্রতিদিন খাওয়া জরুরি। অর্থাৎ মাছের একটা বড় টুকরোই যথেষ্ট।