মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ স্ট্রোক! জীবন বাঁচাতে এখনই জানুন ৬ মারাত্মক লক্ষণ, যার সংক্ষেপ নাম ‘BE FAST’!

বিশ্বজুড়েই স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুসারে, বর্তমানে বিশ্বে দ্বিতীয় প্রধান মৃত্যুর কারণ হলো মস্তিষ্কের এই মারাত্মক রোগ। প্রতিবছর প্রায় এক কোটি ৩৭ লাখেরও বেশি মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই মৃত্যুবরণ করেন। আর যারা বেঁচে থাকেন, তাদের বেশিরভাগই দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক পঙ্গুত্ব নিয়ে কষ্ট পান।
স্ট্রোক হঠাৎ করে হলেও, এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ আগে থেকেই শরীরে প্রকাশ পায়। তবে অজ্ঞতার কারণে অনেকেই তা টের পান না। স্ট্রোকের আগে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি হয়, যার ফলে বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পায়। এই লক্ষণগুলো তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারলে আপনি আপনার বা আশপাশের কারও জীবন বাঁচাতে পারবেন।
স্ট্রোকের আগে মারাত্মক ৬টি লক্ষণ প্রকাশ পায়, যা সবারই জানা জরুরি। এই লক্ষণগুলোকে সংক্ষেপে বলা হয় ‘BE FAST’। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক ‘BE FAST’ এর পুরো অর্থ ও লক্ষণগুলো কী—
B তে ব্যালেন্স (Balance): স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ভারসাম্য হারান। এর সঙ্গে মাথা ঘোরা বা মাথা ভারী হওয়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। স্ট্রোক হওয়ার আগে আক্রান্তরা কোনো কিছু ধরে রাখতে বা বসে থাকতে পারেন না।
E তে আই (Eyes): চোখের সমস্যাকে বোঝায়। এক্ষেত্রে আক্রান্ত রোগীর দৃষ্টি হঠাৎ ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। অনেকে এটিকে রোদে হাঁটা বা জল কম খাওয়ার ফল মনে করে এড়িয়ে যান। আসলে এই সামান্য লক্ষণও হতে পারে স্ট্রোকের আগাম ইঙ্গিত।
F তে ফেসিয়াল ড্রপিং (Facial Drooping): অর্থাৎ মুখ ঝুলে পড়া। স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখের অর্ধেক অংশ (বিশেষ করে মুখের এক পাশের নীচের অর্ধেক) নিচু বা ঝুলে যাওয়ার মতো দেখায়। কথা বলতে গেলে মনে হবে মুখের একপাশ অসাড় হয়ে পড়েছে।
A তে আর্ম উইকনেস (Arm Weakness): অর্থাৎ বাহু দুর্বলতা। একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায়শই এই সমস্যাটিকে এড়িয়ে যান। যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি বেশি দুর্বল হয়ে পড়ছেন কিংবা কোনো কিছু ধরতে অসুবিধা হচ্ছে, ততক্ষণ অনেকেই টের পান না।
S তে স্পিচ (Speech): অর্থাৎ কথা বলতে সমস্যা হওয়া। যদি স্ট্রোকটি মস্তিষ্কের বাম দিকে হয়, তবে হঠাৎই রোগীর কথা বলতে কষ্ট হয় বা কথা জড়িয়ে যায়। স্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে এটিই সর্বপ্রথম প্রকাশ পেতে পারে।
T তে টাইম (Time): সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রোকের রোগীকে বাঁচাতে। এক্ষেত্রে চিকিৎসায় বেশি সময় পাওয়া যায় না। সময়মতো রোগী চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুবরণও করতে পারে। এ কারণেই বলা হয়, ‘টাইম ইজ ব্রেইন’।
উপরোক্ত লক্ষণগুলোর কোনো একটি দেখলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই প্রাথমিক জ্ঞান (BE FAST) জানা থাকলে ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার আগেই আপনি বা আপনার প্রিয়জন বেঁচে যেতে পারেন।