‘প্রধানমন্ত্রীকে ঘুম থেকে জাগানো হয়নি কেন?’ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় কার, বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস!

গাজার সঙ্গে ইসরায়েলের সীমান্ত এলাকায় যখন ধীরে ধীরে আলো ফুটতে শুরু করে, তখন কার আজার বাসিন্দারা নীরবে কিবুতজের কেন্দ্রে থাকা অস্ত্রাগারের দিকে এগিয়ে যান। ২০২৩ সালের সাতই অক্টোবর সকাল সাতটার ঠিক পর সেখানে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলাকারীরা স্থানীয় ১৪ সদস্যের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সাতজনকে হত্যা করে। সেদিন কার আজায় নিহত ৬৪ জনের মধ্যে তারাও ছিলেন এবং সেখান থেকে ১৯ জনকে অপহরণ করা হয়। সেই হামলার ভয়াবহ যন্ত্রণা আজও টাটকা। তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশ্ন উঠছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার এই ব্যর্থতার দায় আর কাদের নেওয়া উচিত।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সাত অক্টোবরের হামলাটি ছিল দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। সেদিন হামলাকারীরা সীমান্তের বেড়া ভেঙে দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় আক্রমণ চালিয়ে প্রায় এক হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। এই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতার তিন বছর পরও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা জানতে কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়নি। অথচ হামলার সময় দেশটির নেতৃত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হলো শত্রুদের হাত থেকে ইসরায়েলকে রক্ষায় সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া।

হামলার মূল কারণগুলো নিয়ে কেউ তদন্ত করেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাকে অবহেলা করার ফল এই হামলা বলে মনে করছেন তারা। হামলার কয়েক মাস আগে থেকেই গাজা সীমান্তের বিভিন্ন ঘাঁটিতে নজরদারির দায়িত্বে থাকা তরুণ নারী সেনাসদস্যরা সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সতর্ক করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। মিশরের গোয়েন্দা প্রধান বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকেও সতর্কবার্তা পাওয়ার দাবি করা হলেও নেতানিয়াহু তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। উল্টো সাতই অক্টোবরের হামলার জন্য তিনি দেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রধানদের ঘাড়েই দায় চাপিয়েছেন। তার দাবি, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইচ্ছা করেই তাকে ঘুম থেকে জাগানো হয়নি।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও হামলায় নিহতদের পরিবারগুলো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে গাজায় হামাসের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে সংগঠনটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার যে নীতি তিনি অনুসরণ করেছিলেন, তার কড়া সমালোচনা করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমান নির্বাচনী প্রচারণায় এই ব্যর্থতা একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহুর সমর্থকরা তার নেতৃত্বকে অপরিহার্য বলে মনে করলেও, সমালোচকরা বলছেন যে তার ক্ষমতায় টিকে থাকাই দেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।