সময়সীমা ফুরোতেই টুইস্ট! আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে স্পিকারকে চিঠি, মধ্য কলকাতায় জরুরি বৈঠকে বিক্ষুব্ধরা!

লোকসভার স্পিকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা আজ, ৮ অক্টোবর শেষ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আজ দুপুর সাড়ে বারোটায় মধ্য কলকাতায় এক জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন এনসিপিআই (NCPI) সাংসদরা। লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও একে নেহাতই ‘গেট-টুগেদার’ বলা হচ্ছে, তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচন কমিশন ও সংসদীয় স্বীকৃতি সংক্রান্ত টানাপোড়েনের মাঝে নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করতেই এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিদ্রোহ করে বেরিয়ে আসেন ২০ জন সাংসদ। এই দলে কাকলি ঘোষ দস্তিদার থেকে শুরু করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দেব ও সায়নী ঘোষের মতো হেভিওয়েটরা রয়েছেন। তারা তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই গঠন করলেও এখনও লোকসভায় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাননি। স্পিকারের অফিস থেকে তাদের বৈধতা ও দলত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়ে জবাব তলব করা হয়েছিল। সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা আজ শেষ হলেও, আইনি জটিলতা ও কিছু সদস্যের মধ্যে মতানৈক্যের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ জবাব জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল সকালেই স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন লোকসভার এনসিপিআই দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের তরফে সাধারণত এক মাস সময় দেওয়ার প্রসঙ্গটি তুলে ধরে নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য আরও দুই সপ্তাহ অতিরিক্ত সময় চেয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি ও ইমেল পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপিআই নেতৃত্ব। আইনজীবীদের পরামর্শ মেনেই এই বাড়তি সময় প্রার্থনা করা হচ্ছে বলে খবর।

আজকের এই মধ্য কলকাতার বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, আইনি লড়াই এবং স্পিকারের সঙ্গে পরবর্তী যোগাযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল ছাড়ার পর আইনি স্বীকৃতি এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই মুহূর্তে এনসিপিআই সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।