নীরবে ক্ষতি করে কিডনি রোগ, লক্ষণ ও প্রতিকার

শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে কিডনি অন্যতম, যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। তবে বিভিন্ন কারণে কিডনি অকেজো হয়ে যেতে পারে। কিডনি রোগ এতটাই নীরবে শরীরের ক্ষতি করে যে, খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত এর লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশ পায় না। তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকে জেনে রাখা এবং এর সঠিক চিকিৎসা সম্পর্কে অবগত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
কিডনি রোগের ঝুঁকিতে কারা?
কিছু নির্দিষ্ট কারণে কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ে। যেমন:
অনিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ: এই দুটি রোগের কারণে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
কিডনির প্রদাহ: এমন এক ধরনের প্রদাহ, যার কারণে প্রস্রাবের সঙ্গে আমিষ (প্রোটিন) নিঃসৃত হয়।
মূত্রপ্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী সমস্যা: মূত্রনালীর কোনো বাধা বা সংক্রমণ কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
জন্মগত সমস্যা: কিছু জন্মগত ত্রুটির কারণেও কিডনি রোগ দেখা দিতে পারে।
হঠাৎ অসুস্থতা: একজন সুস্থ ব্যক্তির হঠাৎ প্রচণ্ড বমি বা পাতলা পায়খানা হলে এবং শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জল ও লবণের প্রতিস্থাপন না হলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত সেবন: যারা প্রায়ই ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেন, তাদেরও কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অতিরিক্ত আমিষজাতীয় খাবার গ্রহণ: অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণও কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কিডনিতে যখন শরীর থেকে অনেক বেশি প্রোটিন বেরিয়ে যায়, তখন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে রোগীর পায়ে জল জমে এবং প্রেশার বেড়ে যেতে পারে। জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. হাসিনাতুল জান্নাত এ বিষয়ে বলেন, “অ্যালবুমিন একটি অপরিহার্য প্রোটিন উপাদান, যা টিস্যু বা কলাগুলোর স্বাস্থ্যকে বজায় রাখে। এটি রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ করে এবং শরীরের মধ্যে তরল, রক্ত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টিস্যুর স্বাস্থ্যকে বজায় রাখার জন্য সঞ্চালিত হয়।” অনেকেই শুধু শরীর ফোলাকে কিডনি রোগ বা কিডনি নষ্ট হওয়া বোঝেন, তবে কিডনি নষ্ট হওয়ার আরও কিছু লক্ষণ আছে।
কিডনি রোগের চিকিৎসা ও সুস্থ থাকার উপায়
কিডনির রোগের চিকিৎসা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে। দেখা যায়, চিকিৎসায় ৩০-৫০ ভাগ রোগী ভালো থাকেন, কিন্তু অনেকে চিকিৎসা না নিলে কিডনি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কিডনি নষ্ট হয়েছে বোঝার উপায়
কিডনি নষ্ট হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ ও পরীক্ষা সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরি:
নিয়মিত ফলোআপ ও রক্তচাপ পরিমাপ: নিয়মিতভাবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ফলোআপ করা এবং রক্তচাপ পরিমাপ করা জরুরি।
পা ফোলা: পা ফুলে যাচ্ছে কি না, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। এটি কিডনি রোগের একটি সাধারণ লক্ষণ।
প্রস্রাবের সমস্যা: প্রস্রাবে সমস্যা বা জ্বালাপোড়া কিংবা প্রস্রাব কমে যাচ্ছে কি না, তা খেয়াল করুন।
খাবারে অরুচি ও বমি ভাব: খাবারে অরুচি, বমি ভাব বা বার বার বমি হওয়াও কিডনি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
ওজন কমে যাওয়া: অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়াও কিডনি রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে।
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ: যদি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে তা কিডনি রোগের কারণ হতে পারে।
ডায়াবেটিক রোগীদের ইনসুলিন চাহিদা কমে যাওয়া: ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিনের চাহিদা হঠাৎ কমে যাওয়া কিডনি রোগের পরবর্তী ধাপের লক্ষণ হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে কিডনির স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে ইউরিন আরএমই টেস্ট এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম করা যেতে পারে। এই টেস্টগুলো যদি স্বাভাবিক থাকে এবং রক্তচাপও স্বাভাবিক থাকে, তাহলে বুঝতে হবে কিডনি ভালো আছে।