নাক ডাকা কি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়? চমকপ্রদ তথ্য জানালো গবেষণা!

নাক ডাকা অনেকের কাছেই একটি নিরীহ অভ্যাস, যা প্রায়শই হাসির খোরাক যোগায়। কিন্তু সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর গবেষণা এই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। গবেষকরা দাবি করছেন, যারা নাক ডেকে ঘুমান, তাদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি! কিন্তু কেন এমনটা হয়?

‘অবসট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ ও ক্যান্সারের সম্পর্ক
মানুষের নাক ডাকার পেছনে একটি বড় কারণ হলো ‘অবসট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ (Obstructive Sleep Apnea) বা ‘ওএসএ’। এই সমস্যায় ঘুমের সময় নাকের ভেতরের বায়ুপ্রবাহের পথটি রুদ্ধ হয়ে আসে, যার ফলে এক ধরনের শব্দ হয়।

সম্প্রতি সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক, বিজ্ঞানী আন্দ্রেয়াস পাম-এর নেতৃত্বে বার্সেলোনার একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। এই গবেষণায় ৪,২০০ জন ওএসএ রোগীর ওপর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, এই রোগীদের প্রায় অর্ধেকই গত পাঁচ বছরের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।

কেন বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি?
এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, নাক ডাকার সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক ঠিক কোথায়? বিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, বহু ওএসএ রোগীর মধ্যেই স্থূলতা বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা দেখা যায়। আগে ধারণা করা হতো, এগুলোই ক্যান্সারের আশঙ্কা বাড়ায়।

তবে, নতুন পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওএসএ-তে ভোগা মানুষদের মধ্যে ঘুমের সময় রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব দ্রুত কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে অক্সিজেনের এই ধারাবাহিক হ্রাসই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

যদিও গবেষকরা বলছেন, গোটা বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন। তবে, এই প্রাথমিক ফলাফলগুলো নাক ডাকা বা স্লিপ অ্যাপনিয়াকে আর কেবল একটি বিরক্তিকর অভ্যাস হিসেবে না দেখে, এর স্বাস্থ্যগত দিকগুলো নিয়ে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। আপনার যদি নিয়মিত নাক ডাকার অভ্যাস থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।