দিনের এই সময় ৭ বার জল পান করুন, রোগ-ব্যাধি থেকে দূরে থাকবেন

সুস্থ থাকতে জল পানের বিকল্প নেই। তবে সেই জল যেন বিশুদ্ধ হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ অপরিষ্কার জল পান করলে তা মারাত্মক সব অসুখ ডেকে আনতে পারে। এমনকী দেখা দিতে পারে জীবনহানির ভয়ও! তবে যেকোনো সময় জল পান করলেই হবে না, সময় বুঝে পান করতে হবে। ভাবছেন, জল পানের আবার সময়-অসময় কী! আপনি যদি ভুল সময়ে জল পান করেন তবে শরীরে দেখা দিতে পারে নানারকম সমস্যা। তাই শুধু বিশুদ্ধ জলই নয়, ঠিক রাখতে হবে জল পানের সময়ও।

তৃষ্ণা পেলে আমরা জল পান করি। তবে তৃষ্ণা মেটানো ছাড়াও জলর রয়েছে অনেক কাজ। যেমন এটি আমাদের শরীরে জলর মাত্রা ঠিক রাখে, অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়ায় এবং কমায় ক্ষুধাভাব। তবে কিছু সময় রয়েছে যখন জল পান করলে ঘটতে পারে হিতে বিপরীত। খাওয়ার সময় বারবার জল পান করার অভ্যাস আছে অনেকের। কিন্তু এটি মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ খাবার খাওয়ার মাঝে বেশি জল পান করা হয়ে গেলে তা হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত জল হজম সহায়ক এনজাইম ও অ্যাসিডের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

ভুল সময়ে জল পান করার আছে আরও অনেক অপকারিতা। তাই কোন সময়ে জল পান করা উচিত এবং কখন উচিত নয় তা আমাদের সবার জেনে রাখা জরুরি। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কোন সময়ে জল পান করা আসলে উপকারী নয়-

পেট ভরে খাওয়ার পরে

পেট ভরে খাবার খেয়ে উঠেই ঢকঢক করে জল পান করছেন? বাদ দিন এই অভ্যাস। খাবার খাওয়ার আগে জল পানের অভ্যাস করুন। তাও খেতে হবে খাবার খাওয়ার অন্তত মিনিট পনেরো আগে। খাবারের মাঝখানে জল পান করাও বাদ দিতে হবে। তবে খুব তেষ্টা পেলে অল্প জল পান করা যেতে পারে। কিন্তু বেশি জল পান করে ফেললে তা নানা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

তৃষ্ণা না পেলে

অনেক সময় তৃষ্ণা না পেলেও আমরা অভ্যাসবশত জল পান করে থাকি। অনেকে মনে করেন, যত বেশি জল পান করা যাবে ততই লাভ। বিষয়টি আসলে তেমন নয়। বরং অতিরিক্ত জল পানের আছে অনেক অসুবিধা। তাই তৃষ্ণা না পেলে জল পান করবেন না। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জল পান করলে তা আমাদের শরীরে লবণের ভারসম্য নষ্ট করে। ফলে নানা অসুখ দেখা দিতে পারে।

প্রস্রাব যদি পরিষ্কার হয়

প্রস্রাবের রং হলুদ হলে তা দুশ্চিন্তার বিষয়। কিন্তু প্রস্রাব পরিষ্কার থাকলে চিন্তার কিছু নেই। তখন বুঝবেন শরীরে পর্যাপ্ত জল রয়েছে। কারণ শরীরে জলর ঘাটতি দেখা দিলে প্রস্রাব হলুদ হতে পারে। কিন্তু শরীরে পর্যাপ্ত জল থাকার পরেও যদি আপনি বারবার জল পান করতে থাকেন, তখন ঘটতে পারে হিতে বিপরীত।

শরীরচর্চার পরপরই

শরীর ঠিক রাখার জন্য শরীরচর্চার বিকল্প নেই। প্রতিদিন নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করেন, এটি অবশ্যই ভালো অভ্যাস। কিন্তু শরীরচর্চার পরপরই জল পান করেন কি? এই অভ্যাস কিন্তু আপনার ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। শরীরচর্চার ধরন হালকা হলে তার মাঝখানে হালকা জল পান করা যেতে পারে। তবে শরীরচর্চার পরপর অবশ্যই নয়। শরীরচর্চার পর শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে যে পরিমাণ মিনারেল বের হয়ে যায় তার ঘাটতি পূরণের জন্য ডাবের জল পান করা যেতে পারে।