ক্রমশ বাড়ছে ভুঁড়ি, বাড়ছে অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও!

দিনের পর দিন আপনার ওজন বেড়েই চলেছে? এ নিয়ে চিন্তিত? সারাদিন বসে বসে কাজ, আর তার জেরেই ভুঁড়ি বাড়ছে? কাজের চাপে শরীরচর্চারও সময় পাচ্ছেন না? ফলে ক্রমশ শরীরের ‘মধ্যপ্রদেশ’-এর আয়তন মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা কিন্তু ইতিমধ্যেই সতর্ক করে জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ভুঁড়ি বা পেটে মেদ অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়!

সম্প্রতি ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’ দি বিএমজে-তে প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে একদল বিজ্ঞানী এমনই আশঙ্কাজনক তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, স্থূল মানুষদের বা যাঁদের অতিরিক্ত ভুঁড়ি রয়েছে, তাঁদের অকাল মৃত্যুর ঘটনা অন্যান্যদের তুলনায় অনেকটাই বেশি। বিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতার কারণে শরীরে বাসা বাঁধে একাধিক রোগ-ব্যাধি। গবেষকদের দাবি, যাঁদের বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ২৫ থেকে ৪০ বা তার বেশি, তাঁদের মধ্যেই একাধিক রোগ-ব্যাধি বাসা বাঁধে এবং বাড়ে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি!

দীর্ঘ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ভুঁড়ির কারণে হৃদযন্ত্র, কিডনি, স্নায়ু-সহ একাধিক জটিল সমস্যা মাথা চাড়া দেয়। বিভিন্ন বয়সের প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষকে নিয়ে পরিচালিত ৭২টিরও বেশি গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন যে, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ভুঁড়ি অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরাসরিভাবে যুক্ত।

গবেষণাপত্রগুলি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা আরও জানতে পেরেছেন যে, স্থূলতার কারণে এমনিতেই একাধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতায় ভুগছেন যে সমস্ত ব্যক্তি, তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অন্যান্যদের তুলনায় অনেক কম হয়। দেখা যায়, অধিকাংশ মোটা মানুষেরই ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা আগে থেকেই বিদ্যমান। শুধু তাই নয়, ওজন বেশি হলে ফুসফুসের উপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই সমস্ত সমস্যার সমাধানে বিএমআই সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা তাই অত্যন্ত জরুরি।

আসুন, এই বিষয়ে আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক…

আদর্শ ওজন নির্ণয় পদ্ধতি:

আদর্শ ওজন নির্ণয়ের পদ্ধতিটি বেশ সহজ। এই পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তির ওজন কিলোগ্রামে মাপা হয় এবং উচ্চতা মাপা হয় মিটারে। এরপর ওজনকে উচ্চতার বর্গফল দিয়ে ভাগ করা হয়। এই ভাগফলটিই হলো বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই (BMI)। সাধারণভাবে, যদি বিএমআই ১৮ থেকে ২৪-এর মধ্যে থাকে, তাহলে তা স্বাভাবিক বলেই মনে করা হয়।

সুতরাং, নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে আজ থেকেই আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী হন। কাজের ফাঁকে অল্প হলেও শরীরচর্চার জন্য সময় বের করুন এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি অনুসরণ করুন। আপনার শরীরের ‘মধ্যপ্রদেশ’-এর দিকে নজর রাখাটা কিন্তু এখন সময়ের দাবি!