রক্তে শর্করা কমাবে নাকি বিপদ বাড়াবে? ডায়াবেটিস ডায়েটে পেয়ারা রাখা নিয়ে বিরাট তথ্য ফাঁস!

ডায়াবেটিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যা, যা একবার শরীরে বাসা বাঁধলে রোগীর জীবনযাপন এবং খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন রুটিনে কড়া নিয়ন্ত্রণ আনা অত্যন্ত বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার লেভেল সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই এই রোগের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েটের পরিবর্তন করা সবার আগে জরুরি। ডালিম, আপেল কিংবা পেয়ারার মতো ফল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে চিকিৎসকরা সবসময়ই পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে পেয়ারা আমাদের দেশে অত্যন্ত সস্তা এবং সারা বছর পাওয়া যায় এমন একটি সহজলভ্য ফল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ডায়াবেটিস রোগীরা কি সত্যিই নিয়মিত পেয়ারা খেতে পারেন এবং বিজ্ঞানীদের মতে এই ফল কি তাঁদের জন্য নিরাপদ? এই বিষয়ে সাম্প্রতিক বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অত্যন্ত চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে, যা প্রতিটি সচেতন মানুষের জানা অত্যন্ত প্রয়োজন।

বিজ্ঞানীদের মতে, পেয়ারার মধ্যে এমন কিছু অনন্য পুষ্টিগুণ রয়েছে যা মেটাবলিজম বাড়াতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাদুর মতো কাজ করে। পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা খাদ্য আঁশ এবং ভিটামিন সি রয়েছে। ফাইবার থাকার কারণে এটি শরীরে খুব ধীরগতিতে শোষিত হয়, যার ফলে হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে পেয়ারার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) অত্যন্ত কম, অর্থাৎ এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঝটপট বাড়িয়ে দেয় না। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা যদি পরিমিত পরিমাণে পেয়ারা খান, তবে তা তাঁদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রমাণিত হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের প্রি-ডায়াবেটিস রয়েছে বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদের জন্য পেয়ারা প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করতে পারে।

তবে পুষ্টিবিদ এবং গবেষকরা একটি বিশেষ বিষয়ের ওপর সবসময় জোর দিয়ে থাকেন, আর তা হলো পেয়ারা খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি। বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন যে পেয়ারা খাওয়ার সময় যদি এর খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া হয়, তবে তার ভেতরের ফাইবার অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই খোসা সমেত পেয়ারা খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর। তবে পাকা পেয়ারা খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণটা একটু মেপে খাওয়া উচিত, কারণ অতিরিক্ত পাকা ফলে প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে। প্রতিদিন একটি মাঝারি সাইজের টাটকা পেয়ারা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতেও দারুণভাবে কাজ করে। সব মিলিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে পেয়ারা ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েট চার্ট থেকে বাদ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই, বরং এটি সঠিক নিয়মে খেলে রোগীরা দারুণ উপকার পেতে পারেন।