মাখন নাকি ঘি— কোনটা শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর? পুষ্টিবিদদের চাঞ্চল্যকর তথ্য জানলে চমকে যাবেন!

বাঙালির রান্নাঘর মানেই হরেক রকমের পদের সমাহার, আর তার স্বাদ বাড়াতে মাখন কিংবা ঘি-এর ব্যবহার বহু প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে থাকা এই দুটি উপাদানের মধ্যে ঠিক কোনটিতে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ফ্যাট বা চর্বি থাকে? পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাখন এবং ঘি উভয়ই দুগ্ধজাত পণ্য হওয়া সত্ত্বেও এদের রাসায়নিক গঠন এবং ফ্যাট বা ফ্যাটজাতীয় উপাদানের মাত্রায় আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক অবাক করা তথ্য— ওজনের দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, খাঁটি ঘিতে মাখনের তুলনায় ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম মাখনে যেখানে প্রায় ৮১ গ্রাম ফ্যাট থাকে, সেখানে সমপরিমাণ খাঁটি ঘিতে ফ্যাটের পরিমাণ প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

তবে ফ্যাট বেশি থাকা মানেই কি ঘি আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন অন্য কথা। মাখনে ফ্যাট ছাড়াও জল এবং দুধের কিছু কঠিন উপাদান বা প্রোটিন মিশ্রিত থাকে, যা রুমের তাপমাত্রায় খুব দ্রুত নষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে, ঘি তৈরির সময় প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে জল এবং মিল্ক সলিড সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলা হয়, যার ফলে এটি অত্যন্ত বিশুদ্ধ একটি ফ্যাট হিসেবে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন যে, ঘির মধ্যে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরের শক্তি জোগাতে সাহায্য করে এবং পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে, যদি এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া হয়। অন্যদিকে, মাখনে সোডিয়ামের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকায় উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এটি বেশি মাত্রায় খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং শরীরের পুষ্টির ভারসাম্য ঠিক রাখতে কোনটা বেশি উপকারী, তা জানতে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।