নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ! ভারতে প্রতি ৩ জনে ২ জন ঝুঁকিতে, বাঁচার পথ বাতলালেন বিশেষজ্ঞরা

বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) ভারতে এক নতুন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নীরবে এটি দেশের জনগণের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের জন্য সামান্য সময় বের করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার গুরুত্ব অপরিসীম, অন্যথায় সুস্থ জীবনযাপন দুরূহ হয়ে পড়বে।

উচ্চ রক্তচাপের ভয়াবহ পরিসংখ্যান:

সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ গবেষণা অনুসারে, ভারতে প্রতি ৩ জন ব্যক্তির মধ্যে ২ জন উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে রয়েছেন। অর্থাৎ, তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, যদিও এখনও তা সরাসরি উচ্চ রক্তচাপের শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ নীরবে এক গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে এগিয়ে চলেছেন।

কেন ‘নীরব ঘাতক’ উচ্চ রক্তচাপ?

দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের প্রবীণ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অশ্বিনী মেহতা উচ্চ রক্তচাপকে যথার্থই ‘নীরব ঘাতক’ আখ্যা দিয়েছেন। এর প্রধান কারণ হলো, এটি প্রায়শই কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। অথচ এই নীরব ঘাতকই পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি বিকলতার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

প্রাথমিক অ্যালডোস্টেরনিজমও (PA) একটি কারণ:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাইমারি অ্যালডোস্টেরনিজম (PA) নামক একটি হরমোনজনিত ব্যাধিও উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হতে পারে। এই অবস্থায় অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিগুলি অতিরিক্ত অ্যালডোস্টেরন হরমোন উৎপাদন করে, যার ফলে শরীরে লবণ ও পটাসিয়ামের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয় এবং পরিণতিতে উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি হয়। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল (কেইএম) হাসপাতালে আনুমানিক ৮-১০% উচ্চ রক্তচাপ রোগীর মধ্যে পিএ-এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির কারণগুলো:

উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বিভিন্ন কারণে বাড়তে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

খাবারে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ।
অতিরিক্ত চিন্তা ও মানসিক চাপ।
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা কম পরিশ্রম করা।
স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন।
উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস।
উচ্চ রক্তচাপ থেকে নিজেকে বাঁচান যেভাবে:

এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে বাঁচতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন:

প্রতিদিন অথবা সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চার দিন নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে অত্যন্ত সহায়ক।
জীবনে চাপ কমানোর বিভিন্ন কৌশল (যেমন যোগা, মেডিটেশন) ব্যবহার করুন।
খাবারে লবণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার (যেমন ফাস্ট ফুড, টিনজাত খাবার) এর পরিমাণ কমিয়ে দিন।
সর্বদা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।
আজকের দ্রুতগতির জীবনে উচ্চ রক্তচাপকে অবহেলা করা এক ভয়ানক ভুল হতে পারে। তবে সময় মতো সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে এই ‘নীরব ঘাতক’কে পরাজিত করা সম্ভব। তাই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হন এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা নিন।