দিনে ক’টি ডিম খাওয়া নিরাপদ? পুষ্টিবিদদের এই গোপন পরামর্শ জানলে চিরতরে দূর হবে আপনার সমস্ত ধোঁয়াশা

প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মনে বিতর্কের শেষ নেই। ডিমকে বলা হয় প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস এবং সুষম খাদ্যের এক অনন্য নিদর্শন। তা সত্ত্বেও, প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি শরীরের জন্য নিরাপদ, নাকি এটি হৃদরোগ বা উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনে—এই প্রশ্নটি আজও লাখ লাখ মানুষের মনে ঘুরপাক খায়। পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ গবেষণা এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এই বহুচর্চিত প্রশ্নের এক অত্যন্ত স্পষ্ট ও বিজ্ঞানসম্মত উত্তর সামনে এসেছে।

পুষ্টি বিজ্ঞান অনুযায়ী, একটি মাঝারি সাইজের ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন, প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন ডি, বি১২ এবং কোলিনের মতো বহু পুষ্টিকর উপাদান থাকে। অতীতে বিশ্বাস করা হতো যে ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরল রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL) বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এই ধারণাকে একপ্রকার ভুল প্রমাণ করেছে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করা কোলেস্টেরলের প্রভাব শরীরের নিজস্ব মেটাবলিজমের ওপর খুব একটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না, যদি না সামগ্রিক জীবনযাত্রা এবং ডায়েট অস্বাস্থ্যকর হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন নির্দ্বিধায় একটি থেকে দুটি ডিম খেতেই পারেন। তবে যাঁদের ইতিমধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কুসুম বাদ দিয়ে শুধু ডিমের সাদা অংশ খাওয়া বা পরিমিত পরিমাণে ডায়েট চার্ট সাজানোই শ্রেয়। তাই অন্ধ ভয়ের বশে ডিম খাওয়া বন্ধ না করে, প্রতিদিনের ডায়েটে এটিকে সঠিকভাবে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল জীবন উপভোগ করুন।