সেলিব্রিটি মেকআপ আর্টিস্টের চরম নিষ্ঠুরতা! বিমানবন্দরে প্রকাশ্যে কর্মীকে অপমান, ক্ষোভে ফুঁসছে নেটদুনিয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং চাঞ্চল্যকর ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ইন্টারনেটে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশিষ্ট সেলিব্রিটি মেকআপ আর্টিস্ট লীনা ভূষণের শেয়ার করা একটি ভিডিও বর্তমানে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ওই ভিডিওটিতে তাকে বিমানবন্দরে তার দলেরই এক তরুণী সদস্যকে জনসমক্ষে তিরস্কার ও চরম অপমান করতে স্পষ্ট দেখা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার মুহূর্ত থেকেই নেটিজেনরা এই ধরণের আচরণকে অত্যন্ত অসংবেদনশীল, শোষণমূলক এবং তীব্র শ্রেণিবিদ্বেষমূলক বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল?
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে মেহক নামের এক তরুণীকে দেখা যায়, যিনি পেশায় একজন মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কর্মরত। ঘটনাচক্রে, তিনি ওই দিন প্রথমবারের মতো বিমানে ভ্রমণ করছিলেন এবং লাগেজ ও জিনিসপত্র গোছানোর সময় অজান্তেই একটি ছোট ভুল করে বসেন। তিনি ভুলবশত তাঁর হ্যান্ডব্যাগে থাকা ব্যাটারিগুলি চেক-ইন করা লাগেজে রেখে দিয়েছিলেন।
এই সাধারণ ভুলটি সামনে আসতেই ওই ইনফ্লুয়েন্সার মেহককে ক্যামেরার সামনে ডেকে চরম ব্যঙ্গ ও কটূক্তির সুরে বলেন, “মেহক, তুমি কী কী গুছিয়েছ? তোমার একটা ইন্টারভিউ আছে, এদিকে এসো। তোমার হ্যান্ডব্যাগে যে ব্যাটারিগুলো থাকার কথা, সেগুলো তোমার লাগেজে রেখে দাও। আমি কি তোমাকে এখানে রেখে যাব?” ক্যামেরার সামনে এই অপ্রত্যাশিত আচরণে তীব্র অস্বস্তি বোধ করে মেহক চরম ভয়ে কুঁকড়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন এত ক্ষোভ?
প্রাথমিকভাবে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর ভিডিওটি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও ততক্ষণে তা টুইটার (বর্তমানে ‘এক্স’) এবং অন্যান্য প্রধান সামাজিক মাধ্যমগুলিতে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখার পরেই সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনরা চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সমালোচকদের মতে, একটি সামান্য ভুলের জন্য কাউকেও জনসমক্ষে বা ক্যামেরার সামনে অপমান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে চাকরির হারানোর তীব্র ভয়ে অসহায় মেয়েটির মুখ বন্ধ রাখার সুযোগ নেওয়া হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন। ভিডিওটিতে ওই তরুণীর চোখেমুখে যে চরম ভয় ও অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছিল, তাকে দর্শকরা অত্যন্ত জঘন্য, নিষ্ঠুর এবং অমানবিক বলে বর্ণনা করেছেন।