শুধু অভিনয় নয়! কোন জাদুবলে ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা হয়ে গেলেন ৬১ বছরের বাদশা?

ভারতীয় সিনেমায় শাহরুখ খান নিঃসন্দেহে এক বিশাল নাম। তবে তাঁর সাফল্যের গল্প শুধু রুপোলি পর্দাতেই আটকে নেই। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের জনপ্রিয়তাকে তিনি বিনোদন, খেলাধুলা এবং কনজিউমার ব্র্যান্ডের ব্যবসায় দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন। ৬১তম জন্মদিনে দাঁড়িয়ে কিং খানের এই আর্থিক যাত্রা সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো। হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬ অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। তিনিই এখন ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা।

শাহরুখ খানের ব্যবসার সবচেয়ে বড় মেরুদণ্ড হলো রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট। ২০০২ সালে স্ত্রী গৌরী খানের সঙ্গে মিলে তিনি এই প্রযোজনা সংস্থা তৈরি করেন। এই সংস্থা ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘ওম শান্তি ওম’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘রইস’ এবং ‘জওয়ান’-এর মতো সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছে। শুধু ছবি তৈরি নয়, ডিস্ট্রিবিউশন এবং ভিএফএক্স-এর জগতেও তারা বিশাল নাম। ‘রেড চিলিজ ভিএফএক্স’ বড় বাজেটের ছবিতে উন্নতমানের ভিজ্যুয়াল এফেক্টস দিয়ে থাকে। শুধু অভিনয়ের পারিশ্রমিক নয়, ছবির লভ্যাংশেও ভাগ বসান তিনি। গৌরী খান নিজেও একজন সফল উদ্যোগপতি এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে এই ব্যবসায় বড় ভূমিকা পালন করছেন।

বিনোদনের বাইরে ক্রিকেটেও বিশাল বিনিয়োগ করেছেন শাহরুখ। ২০০৮ সালে জুহি চাওলা ও জয় মেহতার সঙ্গে মিলে তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) কেনেন। কেকেআর ২০১২, ২০১৪ এবং ২০২৪ সালে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাণিজ্যিক ভ্যালু বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। নাইট রাইডার্স গ্রুপের মাধ্যমে তিনি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ‘ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স’, ইউএই-র ‘আবু ধাবি নাইট রাইডার্স’ এবং মেজর লিগ ক্রিকেটে ‘লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্স’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘নাইট রাইডার্স ক্রিকেট গ্রাউন্ড’ তৈরি করে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন।

সিনেমা ও ক্রিকেট ছাড়াও লাক্সারি ব্র্যান্ড, রিয়েল এস্টেট এবং বিজ্ঞাপন থেকে প্রচুর আয় করেন তিনি। ছেলে আরিয়ান খানের সঙ্গে মিলে ‘ডি’য়াভোল’ (D’YAVOL) নামে একটি প্রিমিয়াম লাক্সারি ব্র্যান্ডও পরিচালনা করছেন। মুম্বইয়ের ‘মন্নত’ ছাড়াও দিল্লি, লন্ডন, দুবাই এবং আলিবাগে তাঁর বিলাসবহুল সম্পত্তি রয়েছে। হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬ অনুযায়ী তাঁর সম্পদ ১০ হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে। সেলিব্রিটিদের এই পরিসংখ্যান মূলত বাজার মূল্যায়ন ও বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা তাঁর বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্যের উজ্জ্বল ছবি তুলে ধরে।