শাহরুখকে পর্দায় মারধর করলেই বাস্তবের খলনায়ক! প্রবীণ অভিনেতা দিলীপ তাহিলকে ঘিরে লন্ডনে এ কী কাণ্ড ঘটল?

সিনেমার রূপোলি পর্দার অভিনয় কখনও কখনও এতটাই জীবন্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে যে দর্শক পর্দা আর বাস্তবের সূক্ষ্ম পার্থক্য পুরোপুরি ভুলেই যান। আর এমনই এক দারুণ মজার অথচ অদ্ভুত আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সামনে শেয়ার করেছেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও বর্ষীয়ান অভিনেতা দিলীপ তাহিল। বিশেষ করে লন্ডনের রাজপথে এক অন্ধ শাহরুখ ভক্তের সঙ্গে তাঁর অপ্রত্যাশিত সাক্ষাতের সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনা আজও তাঁর স্মৃতিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে গেঁথে রয়েছে।
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে বহু স্মরণীয় চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন দিলীপ তাহিল। তবে অমর শাহেনশাহ শাহরুখ খানের সঙ্গে তাঁর অভিনীত একাধিক ছবির মধ্যে ১৯৯৩ সালের কালজয়ী ব্লকবাস্টার ছবি ‘বাজিগর’-এর কথা আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের দর্শকরা আলাদা করে মনে রাখেন। সেই সুপারহিট ছবিতে দিলীপ তাহিলের অভিনীত চরিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ নেতিবাচক এবং গল্পের প্রয়োজনে শাহরুখ খানের চরিত্রের সঙ্গে তাঁর চরম দ্বৈরথ ও সংঘাত দেখানো হয়েছিল। পর্দায় সেই তীব্র ক্ষোভ আর মারধরের দৃশ্যই এক ভক্তের কচি ও সরল মনে এমন গভীর দাগ কেটেছিল যে, সুদূর লন্ডনের মাটিতে দাঁড়িয়েও সে বাস্তব জীবনে অভিনেতা দিলীপ তাহিলকেই সেই আসল ‘খলনায়ক’ হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন এবং তাঁর ওপর বেজায় চটেই ছিলেন।
স্মৃতিচারণা করে অভিনেতা জানান যে, লন্ডনের কোনো এক ব্যস্ত রাস্তায় ওই অদ্ভুত ভক্তের সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার পর সেখানকার পুরো পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে বেশ আবেগঘন ও নাটকীয় হয়ে উঠেছিল। অভিনেতা যখন ওই ব্যক্তির সামনে আসেন, তখন তিনি সটান প্রশ্ন করে বসেন, “আপনি কেন পর্দায় শাহরুখ খানকে এত মারধর করেছিলেন? আপনি তো মানুষ হিসেবেও খুব খারাপ!” এই অপ্রত্যাশিত ও সরল অভিযোগ শুনে প্রথমে অভিনেতা মনে মনে বেশ মজা পেলেও, পরবর্তীতে ওই ভক্তের মুখের নিখাদ আবেগ ও ক্ষোভ দেখে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে সিনেমার নেতিবাচক চরিত্রটি দর্শকের মনোজগতে ঠিক কতটা গভীর ও অমোঘ প্রভাব ফেলেছিল।
আসলে বড়পর্দায় কোনো অভিনেতার অভিনয়শিল্প কতটা নিখুঁত, জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে, এই ধরনের বাস্তব ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় নিখুঁত প্রমাণ। দর্শক যখন অভিনেতা এবং তাঁর অভিনীত কাল্পনিক চরিত্রের মধ্যকার গণ্ডি ভুলে যান, তখনই প্রমাণিত হয় যে সেই শিল্পীর অভিনয় কতটা শক্তিশালী এবং প্রভাব বিস্তারকারী ছিল। দিলীপ তাহিলের সুদীর্ঘ অভিনয় জীবনেও ঠিক সেটাই ঘটেছিল, যা একজন খাঁটি শিল্পীর কাছে যেমন অদ্ভুত, তেমনই পরম প্রাপ্তির।
তাছাড়া, গ্লোবাল সুপারস্টার শাহরুখ খানের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা যে শুধুমাত্র দেশীয় সীমানার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়, লন্ডনের এই ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল ও অকাট্য নিদর্শন। ভিনদেশের মাটিতেও বলিউড ছবির চরিত্রগুলি সাধারণ মানুষের আবেগ ও অনুভূতির ওপর ঠিক কতটা গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করতে পারে, দিলীপ তাহিলের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যেন তারই এক নিখাদ দৃষ্টান্ত। একজন প্রকৃত অভিনেতার কাছে ভক্তদের এহেন অবিকল ও আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া নিঃসন্দেহে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। পর্দায় ফুটিয়ে তোলা কয়েকটি আবেগঘন দৃশ্য যে বাস্তব জীবনের সাধারণ মানুষের অন্তরাত্মাকে এভাবে নাড়া দিতে পারে, তা যে কোনো শিল্পীর জন্যই জীবনের অন্যতম সেরা স্বীকৃতি। দিলীপ তাহিলের লন্ডনের সেই আকস্মিক অভিজ্ঞতা তাই নিছক কোনো মজার গল্প নয়, বরং ভারতীয় মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার অসামান্য শক্তির এক জীবন্ত দলিল।