আনন্দের অনুষ্ঠান পরিণত হল চোখের জলে! সীতাপুরে যাত্রবোঝাই ট্রলিতে ঘাতক ট্রাকের ধাক্কা, ১৭ জনের অবস্থা কেমন?

সন্তানের মুণ্ডন সংস্কারের মতো একটি পবিত্র ও আনন্দঘন পারিবারিক অনুষ্ঠান সেরে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে গেল এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর জেলার পিসাওয়া এলাকায় একটি দ্রুতগতির ঘাতক ট্রাকের সজোরে ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে গেল যাত্রীবোঝাই একটি ট্র্যাক্টর-ট্রলি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন নিরীহ গ্রামবাসী। পাশাপাশি, এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও অন্তত ১৭ জন যাত্রী, যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার ঠিক পরপরই ট্রলির নীচে চাপা পড়ে যান বহু যাত্রী, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের সেই পরিবেশ গভীর শোকে ও আর্তনাদে পরিণত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পিসাওয়া থানার অন্তর্গত বরগাঁও রাসুলপুর গ্রামের একদল বাসিন্দা প্রতিবেশী হরদোই জেলার রামপুর এলাকার একটি বিখ্যাত শিবমন্দিরে তাঁদের ছোট সন্তানের মুণ্ডন সংস্কার করাতে গিয়েছিলেন। ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠান অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আনন্দের সঙ্গে সম্পন্ন করার পর একটি ট্র্যাক্টর-ট্রলিতে চেপে তাঁরা নিজেদের গ্রামে ফিরে আসছিলেন। ঠিক সেই সময়ই পিসাওয়া থানা এলাকার হিম্মতনগর-চন্দবাপুরের সংলগ্ন রাস্তায় একটি বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা ট্রাক সজোরে ওই ট্র্যাক্টর-ট্রলিটিকে পেছন থেকে ধাক্কা মরে। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং যাত্রবোঝাই ট্রলিটি রাস্তার ওপর সজোরে উলটে যায়। ট্রলির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই শুরু হয় তীব্র হাহাকার।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং নিজ নিজ উদ্যোগে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। এর কিছুক্ষণ পরেই খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় পুলিশ আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে পিসাওয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি, গুরুতর জখম ১৭ জনের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা ৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে সীতাপুর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বাকি আহতদেরও স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পিসাওয়া থানার ইনস্পেক্টর প্রভাত কুমার গুপ্ত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ বছরের শিশু কাজল, ৫০ বছরের সুশীলা, ২২ বছরের রুবি এবং ৪০ বছরের সুনীতা রয়েছেন—যাঁরা প্রত্যেকেই বরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে পঞ্চম মৃত মহিলার বয়স আনুমানিক ৫৮ বছর হলেও তাঁর সঠিক পরিচয় এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় মৃত ও আহত সমস্ত যাত্রীই একই গ্রামের এবং পারস্পরিক আত্মীয় বা প্রতিবেশী। একটি শুভ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে যে মানুষগুলো হাসিমুখে ঘরের পথে রওনা দিয়েছিলেন, তাঁদের এই আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পুলিশ পলাতক ট্রাক ও তার চালকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।