“আমি মালদার ছেলে হলে ভোট পেতাম!” বিগ বস বাংলা থেকে এলিমিনেট হতেই কেন এমন আক্ষেপ ভরতের?

দীর্ঘ আট সপ্তাহের জার্নি শেষ করে ‘বিগ বস’-এর ঘর থেকে বিদায় নিতে হলো প্রবীণ অভিনেতা ভরত কলকে। শো-এর অন্দরে এতদিন যিনি বাকি প্রতিযোগীদের অভিভাবক হিসেবে আগলে রেখেছিলেন, তাঁর বিায়ে চোখের জলে ভাসলেন বিগ বসের ঘরের প্রতিটি সদস্য। তবে ঘর থেকে বেরিয়েই দর্শকদের ভোটিং প্যাটার্ন ও শহুরে মানসিকতা নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

সোজা কথায় মনের ক্ষোভ উগরে দিয়ে ভরত কল জানান, মফস্বল ও জেলার মানুষের মধ্যে যে একতা ও আঞ্চলিক আবেগ রয়েছে, তা কলকাতার মতো শহরের মানুষদের মধ্যে একদমই অনুপস্থিত। তাঁর কথায়, “জলপাইগুড়ি থেকে তনুশ্রী এসেছে বলে ওখানকার সব মানুষ একজোট হয়ে তাকে ভোট দিয়েছেন। আমি যদি আজ মালদার ছেলে হতাম, তবে হয়তো আমিও অগাধ ভোট পেতাম। কিন্তু শহুরে মানুষদের হাতে ভোট দেওয়ার এত সময় নেই, সেই ঐক্যটাই শহরবাসীদের মধ্যে নেই।” তবে এই ভোটিং ব্যবস্থার প্রতি আক্ষেপ থাকলেও, সাধারণ দর্শকের ওপর তাঁর কোনও ব্যক্তিগত রাগ বা ক্ষোভ নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন অভিনেতা।

শো থেকে বাদ পড়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ভরত জানান, তিনি পুরো খেলাটা যেমন অত্যন্ত সততা ও মনোযোগের সঙ্গে খেলেছিলেন, তেমনই এই হারটাকেও খেলাধুলোর মনোভাব নিয়ে সহজভাবে মেনে নিয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, “আমার একটি মিষ্টি পরিবার ও পিছুটান রয়েছে—স্ত্রী জয়শ্রী ও মেয়ে আরিয়া আমার আসল পৃথিবী।”

বিদায়বেলায় আবেগঘন পরিবেশে ভরত কল সহ-প্রতিযোগীদের উদ্দেশে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে বলেন, “সব যুদ্ধে জিততেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তোমরা সবাই মন দিয়ে ভালো খেল।” ইন্ডাস্ট্রিকে নিজের পরিবার উল্লেখ করে তিনি জানান যে এই জার্নির মাধ্যমে রাজবীর ও তনুশ্রীর মতো নতুন সদস্য যুক্ত হলো এবং তিনি নিজে নিরঞ্জনের বড় ভক্ত হয়ে উঠেছেন। মনামীকে ক্যাপ্টেন হিসেবে দেখার ইচ্ছা পূরণ হওয়াকে ‘বিগ বস’-এর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন এই প্রবীণ তারকা।