ভারত পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে জাগ্রত মা কালী! বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা, কোথায় কোথায় রয়েছে রহস্যময় প্রাচীন মন্দির?

শক্তির আরাধনা এবং দীপাবলির আলোয় যখন মেতে ওঠে দেশ, তখন অনেকেই হয়তো জানেন না যে মা কালীর রূপ ও কৃপা কেবল ভারতের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাচীন বাণিজ্যপথ, ঔপনিবেশিক আমলে ভারতীয়দের দূরদেশে পাড়ি এবং বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের আধ্যাত্মিক প্রচারের ওপর ভর করে এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার বহু দেশে গড়ে উঠেছে মা কালীর অসংখ্য প্রাচীন ও আধুনিক মন্দির।
দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মা কালীর আরাধনা অত্যন্ত সুপ্রাচীন। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে রয়েছে ৫১ সতীপীঠের অন্যতম সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী যশোরেশ্বরী কালী মন্দির। এছাড়া ঢাকার প্রত্নতাত্ত্বিক রমনা কালী মন্দির, ঢাকেশ্বরী, সিদ্ধেশ্বরী ও সুন্দরবনের গহীনে অবস্থিত ৪০০ বছরের প্রাচীন শেখেরটেক কালী মন্দির আজও ভক্তদের আস্থা ও ভক্তির কেন্দ্র। হিমালয়ের কোলে নেপালে কাঠমান্ডুর অদূরে অবস্থিত বিখ্যাত দক্ষিণকালী মন্দির এবং বাগলুংয়ের কালিকা ভগবতী মন্দির আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত। এমনকি পাকিস্তানেও বালুচিস্তানের কালাট অঞ্চলে ইসলাম-পূর্ব যুগের প্রাচীন কালাট কালী মাতা মন্দির আজও ঐতিহ্য বহন করছে, পাশাপাশি পেশোয়ার ও করাচিতেও রয়ে গেছে ঐতিহাসিক কালীবাড়ি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমৃদ্ধ দেশ মায়ানমারের ইয়াঙ্গুনে ১৮৭১ সালে তামিল অভিবাসীদের দ্বারা তৈরি শ্রী কালী মন্দির তার নয়নাভিরাম দ্রাবিড় স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। আবার সিঙ্গাপুরের ব্যস্ততম সেরানগুন রোডে ১৮৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘শ্রী বীরমাকালিয়াম্মান মন্দির’ সেদেশের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক স্থান।
পাশ্চাত্য বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছে শক্তির মহিমা। প্রবাসী বাঙালি ও ভারতীয়দের হাত ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ওয়াশিংটন কালী মন্দির, ক্যালিফোর্নিয়ার লাগুনা বিচ এবং নিউ ইয়র্ক ও শিকাগোর কালীবাড়িগুলিতে নিয়ম নিষ্ঠা সহকারে শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। একইভাবে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও বার্মিংহাম এবং জার্মানি ও ফ্রান্সের বিভিন্ন কালীবাড়িতে প্রতিবছর হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন।
উনিশ শতকে ভারত থেকে যাওয়া চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের মাধ্যমে মরিশাস, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং দক্ষিণ আফ্রিকাতেও মা কালীর আরাধনা শিকড় গেড়েছিল। বিশ্বজুড়ে অবস্থিত এই কালী মন্দিরগুলি কেবল পুজো-অর্চনার স্থান নয়, বরং বিদেশের মাটিতে ভারতীয় সংস্কৃতি চর্চা ও বিপদে মানুষের সেবায় অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।