কালীপুজোয় কালীঘাটে অদ্ভুত অলৌকিক রীতি! ভোরে দরজা খুলতেই ভিড় সামলাতে নামল পুলিশ

শক্তির আরাধনায় আলোর উৎসবে মাতোয়ারা বাংলা। আর কালীপুজোর বিশেষ পূর্ণ তিথিতে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সতীপীঠ কালীঘাট মন্দিরে রবিবারের ভোর থেকেই শুরু হয়েছে মহোৎসব। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, সতীর একান্নপীঠের অন্যতম পবিত্র স্থান এই কালীঘাট, যেখানে দেবী সতীর ডান পায়ের চারটে আঙুল পড়েছিল। এখানকার অধিষ্ঠিত দেবী সাক্ষাৎ ‘দক্ষিণাকালী’। বিশেষ এই দিনে দেবীর কৃপা ও দর্শন লাভ করতে ভোররাত থেকেই দূর-দূরান্তের হাজার হাজার ভক্তের ঢল নেমেছে মন্দির প্রাঙ্গণে।
উৎসবের দিন ভক্তদের চরম ভিড় সামলাতে ও সুষ্ঠু দর্শনের জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ ভোর ৩টে থেকেই প্রস্তুতির কাজ শুরু করে দেয়। ভোর ৪টেয় মঙ্গল আরতি ও নিত্যপুজো সমাপ্ত হতেই সাধারণ পুণ্যার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় গর্ভগৃহের প্রধান দরজা। মন্দির সূত্রে খবর, প্রতি অমাবস্যা নিশির মতো কালীপুজোর রাতেও নিষ্ঠা ভরে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ নিশিপুজো। তবে তার আগে সন্ধ্যায় মন্দির চত্বরে আয়োজিত হবে ঐতিহ্যবাহী মহালক্ষ্মী পুজো।
কালীঘাটের দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী, দুপুরে মাকে বিশেষ রাজভোগ নিবেদন করা হয়। এই বিশেষ ভোগে থাকে সুগন্ধি পোলাও, সাদা ভাত, পাঁচ রকমের ভাজা, পাঁচ রকমের মাছের পদ, পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া বলির পাঁঠার মাংস, চাটনি, পায়েস ও হরেক রকমের মিষ্টি।
সন্ধে ৬টা নাগাদ শুরু হবে মহালক্ষ্মী আরাধনা। এ দিন সেবায়েতদের গৃহ থেকে আসবে বিশেষ নৈবেদ্য। পুজোর সূচনায় কুলো ও পাটকাঠি জ্বালিয়ে ‘অলক্ষ্মী বিদায়’ করে পরমাদরে দেবী লক্ষ্মীকে আবাহন করবেন সেবায়েতরা। এরপর মাকে সুগন্ধি দ্রব্যাদি, নতুন শাড়ি ও পুজো সামগ্রীতে সাজিয়ে খিচুড়ি ভোগ দেওয়া হবে। অতঃপর রাত বাড়লে শুরু হবে মূল নিশিপুজো।
তবে ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবার নিশিপুজো ও ভোগের সময় কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে। সন্ধের ভোগের পর রাত ৭:১৫ থেকে ৭:৩০-এর মধ্যে ফের ভক্তরা মায়ের দর্শনের সুযোগ পাবেন। সবশেষে মায়ের শয়নের আগে ঐতিহ্য মেনে নিবেদন করা হবে ‘হরেন ময়রার’ বিখ্যাত চ্যাপ্টা রসগোল্লা। রাত ২:১৫-র মধ্যে পুণ্যার্থীদের প্রস্থান ঘটিয়ে রাত ৩টে নাগাদ মায়ের শয়ন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।