সীমান্তে বিরাট রক্তপাত! বিএসএফের গুলিতে ঝাঁঝরা বাংলাদেশি সোনা পাচারকারী, উদ্ধার প্রায় ৩ কেজি সোনা

নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার টুঙ্গি সীমান্ত এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পার করে ভারতে সোনা পাচারের সময় বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর জখম হয়েছেন। শনিবার ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩ কেজি সোনা, যার বর্তমান বাজারমূল্য আকাশছোঁয়া। এই সফল অভিযানের পর সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র নিয়ে নতুন করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

স্থানীয় ও গোয়ান্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন অভিযুক্ত বাংলাদেশি যুবক অত্যন্ত সুকৌশলে দেশের সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছিল। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিপুল পরিমাণ এই সোনা ভারতীয় ভূখণ্ডে পাচার করা। ঠিক সেই সময় আন্তর্জাতিক সীমান্তে টহলরত ও কর্তব্যরত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফের সতর্ক জওয়ানদের তীক্ষ্ণ নজরে পড়ে যান ওই ব্যক্তি। জওয়ানরা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে চ্যালেজ্ঞ করেন এবং আইন অনুযায়ী থামার কঠোর নির্দেশ দেন। কিন্তু বিএসএফের সেই সতর্কতা ও নির্দেশ সম্পূর্ণ অমান্য করে ওই পাচারকারী বেপরোয়াভাবে পালানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাধ্য হয়ে জওয়ানরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে বাধ্য হন।

বিএসএফের গুলিতে গুরুতর জখম অবস্থায় ওই অভিযুক্তকে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে স্থানীয় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে কঠোর পুলিশি পাহারা ও নজরদারিতে ওই হাসপাতালেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। ধৃত যুবকের নাম মনির হোসেন বলে পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা। তাঁর এই ভয়ঙ্কর আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ইতিহাস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় তিন কেজি সোনা ঠিক কোন উৎস থেকে বা কার নির্দেশে আনা হয়েছিল এবং এই বিশাল আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের নেপথ্যে অন্য কোনো বড় মাথা বা শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জখম পাচারকারী সুস্থ হলেই তাঁকে দফায় দফায় জেরা করে এই চোরাচালান নেটওয়ার্কের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী। এই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।