E20-র নামে 420! পেট্রোলে মারাত্মক কেলেঙ্কারি, মোদী সরকারকে তুলোধোনা রাহুলের!

পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণ নিয়ে দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন স্ক্যান্ডাল ও তোলপাড় করা বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী E20 পেট্রোলে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ইথানল থাকার কথা। কিন্তু কর্নাটকের একাধিক জেলায় নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি—এমনকি ৩১.২ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল বিক্রির ভয়ঙ্কর অভিযোগ সামনে এসেছে। রাজ্য সরকারের সংগৃহীত ১৪টি নমুনার মধ্যে ১১টিতেই ২০ শতাংশের বেশি ইথানল মেলায় কড়া তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় কেন্দ্র সরকারকে সরাসরি নিশানা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তোপ দেগে বলেছেন, “মোদী সরকারের আমলে E20 আসলে ৪২০-তে পরিণত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের পকেট থেকে জলজ্যান্ত চুরি চলছে।”
কর্নাটকের বেঙ্গালুরু, কোলার, চিক্কাবল্লাপুর, ম্যাঙ্গালুরু ও টুমাকুরুর মতো ৭টি জেলার বিভিন্ন পাম্প থেকে সংগৃহীত নমুনা ‘শ্রীরাম রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এ গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়। সরকারি রিপোর্টে প্রকাশ, ইণ্ডিয়ান অয়েলের (IOCL) পেট্রোলে ৩১.২%, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের (HPCL) পেট্রোলে ৩০.৫% এবং ভারত পেট্রোলিয়ামের (BPCL) তেলেও ২৬.৫% পর্যন্ত ইথানল পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত ইথানল মেশানোর ফলে গাড়ির মাইলেজ দ্রুত কমছে এবং ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গাড়ির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। Rahul Gandhi প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ মানুষ চড়া দামে আসল পেট্রোল কিনলেও তাঁদের গাড়িতে কেন বিষাক্ত পরিমাণ ইথানল ঢালা হচ্ছে এবং এই অসাধু নীতি থেকে আসল ফায়দা কারা লুটছে?
যদিও IOCL, HPCL এবং BPCL যৌথ বিবৃতি দিয়ে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছে। তেল সংস্থাগুলির দাবি, পরীক্ষার পদ্ধতিটি ছিল বেআইনি এবং প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। তারা জানায়, সরবরাহ করা প্রতিটি ড্রপ BIS মানদণ্ড IS 17021 মেনেই তৈরি। তবে ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও বিরোধীরা ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং এই মহা-জালিয়াতির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছে।