‘শ্যামা মা কি সত্যি কালো?’ ফুলিয়ার এই মন্দিরে কেন রক্তলাল রূপে পুজো পান মা চামুণ্ডা?

বাঙালির মননে ও ভক্তিতে মা কালী মানেই কৃষ্ণবর্ণা এক অলৌকিক রূপ। কিন্তু সত্যিই কি শ্যামা মা সবসময় কালো? সেই প্রচলিত ধারণা বদলে দেয় নদীয়ার শান্তিপুরের ফুলিয়া। এখানে পরমেশ্বরী মা চামুণ্ডা পূজিত হন এক অদ্ভুত ও চোখধাঁধানো টকটকে লাল রূপে, যাকে লোকভাষায় বলা হয় ‘ললিতা’। মাথার ওপরে সগর্ভে অবস্থান করছে পঞ্চসর্প, আর মায়ের সারা শরীরজুড়ে রক্তজবার মতো গাঢ় লাল রঙের জ্যোতি। শান্তিপুরের ফুলিয়া-তাহেরপুর রোডের অরবিন্দ পল্লির ঐতিহ্যবাহী চামুণ্ডা কালী মন্দিরের এই রূপ ও ইতিহাস আজও অসংখ্য ভক্তকে বিস্মিত করে।

এই অনন্য পুজোর নেপথ্যে রয়েছে এক সাধকের অলৌকিক ভক্তিগাথা। প্রায় ১৫ বছর আগে সন্ন্যাসী বিজয় ক্ষ্যাপা ফুলিয়ার রাস্তার পাশে একটি গাছতলার টিনের ঘরে মা কালীর এই বিশেষ রক্তবর্ণ রূপ সৃষ্টি করে আরাধনা শুরু করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, সৃষ্টিশক্তির মূল আকর্ষণের প্রতীক হিসেবেই মা এখানে লাল বর্ণ ধারণ করেছেন। মায়ের মহিমা এতটাই জাগ্রত যে, দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এসে মানত করেন এবং কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করেন।

শুধু বাৎসরিক কালীপুজোই নয়, প্রতিটি অমাবস্যা এবং বিশেষ করে কৌশিকী অমাবস্যায় এই মন্দিরে টানা তিন দিন ধরে চলে মহাসমারোহ। এই উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে বসে বিরাট মেলা এবং হাজার হাজার ভক্তের জন্য খিচুড়ি প্রসাদের আয়োজন করা হয়। গাছতলার ছোট ঠাকুরের রূপ আজ বিশাল মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নদীয়া জেলার অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।