সবুজ মোড়ক দেখলেই কিনছেন? দীপাবলির আগে সাবধান! বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে হাজার হাজার ফেক গ্রিন ক্র্যাকার

দীপাবলি মানেই আলো, আনন্দ আর বাজির রোশনাই। তবে বায়ু দূষণের কথা মাথায় রেখে আজকাল অনেকেই পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ক্র্যাকার্স’ বা সবুজ বাজির দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু উৎসবের মরসুম শুরু হতেই বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের রমরমায় আসল সবুজ বাজির আড়ালে দেদার বিক্রি হচ্ছে ক্ষতিকারক নকল বাজি। রঙের মোড়ক বা ‘গ্রিন’ লেখা দেখলেই যে তা পরিবেশবান্ধব হয় না, সে বিষয়ে সাধারণ ক্রেতাদের সতর্ক করে দিয়েছেন পরিবেশবিদরা। একটু ভুল করলেই দীপাবলির আনন্দ ম্লান হয়ে যেতে পারে মারাত্মক বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিকের প্রভাবে। তাই আসল এবং নিরাপদ বাজি চেনার কিছু foolproof উপায় জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সবচেয়ে বড় এবং প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, বাজির বাক্সে সবুজ রঙের ছবি বা আকর্ষণীয় মোড়ক থাকলেই তাকে ‘গ্রিন ক্র্যাকার’ ভেবে নেওয়া। অনেক সময় সাধারণ ও নিষিদ্ধ বাজি প্রস্তুতকারকরা পরিবেশবান্ধব সাজার নিখুঁত ফন্দি হিসেবে সবুজ রঙের মোড়ক ব্যবহার করে সাধারণ ক্রেতাদের চোখে ধুলো দেয়। তাই শুধু প্যাকেটের রং দেখে বাজি কেনা মোটেও নিরাপদ নয়। আসল গ্রিন বাজি চেনার সবচেয়ে বড় এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো তার প্যাকেজিংয়ে থাকা বিশেষ কিউআর কোড (QR Code)। প্রতিটি আসল সবুজ বাজির বাক্সে একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড থাকে, যা স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করলেই সরাসরি CSIR-NEERI-এর অফিসিয়াল পোর্টাল বা ডেটাবেস খুলে যায়। সেখানে প্রস্তুতকারক সংস্থার নাম এবং বাজির উপাদানের সঠিক বিবরণ চলে আসে। যদি স্ক্যান করার পর কোনো কোড কাজ না করে বা ভুল তথ্য দেখায়, তবে নিশ্চিত হবেন সেটি পুরোপুরি নকল।
এর পাশাপাশি, বাজি কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে CSIR-NEERI এবং PESO (Petroleum and Explosives Safety Organisation)-এর অনুমোদিত লোগো বা সিলমোহর রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে। আসল গ্রিন বাজির প্যাকেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে যে, তাতে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বেরিয়াম নাইট্রেট বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করা হয়নি। তাছাড়া এই বাজিগুলি সাধারণ বাজির তুলনায় অনেক কম শব্দ উৎপন্ন করে এবং প্যাকেটে অনুমোদিত ডেসিবেলের নির্দিষ্ট মাত্রা স্পষ্টভাবে প্রিন্ট করা থাকে। ফুটপাথের নামহীন হকার বা কোনো অচেনা উৎস থেকে সস্তায় বাজি না কিনে সর্বদা সরকার স্বীকৃত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য বাজি বিক্রেতার কাছ থেকেই গ্রিন বাজি কেনা উচিত। পরিবেশ রক্ষার্থে এবং নিজের পরিবারের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে উৎসবের দিনগুলিতে একটু সচেতন হওয়া এবং যাচাই করে কেনাকাটা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।