ছেলের আবদারে আস্ত ২ কোটির BMW হাজির গ্রামে! বাবা যা করলেন, দেখলে চোখ কপালে উঠবে

নবম শ্রেণির পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য সন্তানকে উপহার হিসেবে কী দেওয়া যেতে পারে? বই, পেন, সাইকেল বা বড়জোর একটি ভালো স্মার্টফোন— এর বেশি সাধারণত কেউ ভাবেন না। কিন্তু পূর্ব বর্ধমানের গলসির এক ব্যবসায়ীর কাণ্ড দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠতে বাধ্য! পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে তাঁর বাবা উপহার দিয়েছেন আস্ত একটি বিলাসবহুল BMW গাড়ি। আর তা কোনো খেলনা গাড়ি নয়, একদম আসল। যার বাজারদর প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা!
বাবার বহুমুখী ব্যবসা ও রাজকীয় উপহার পূর্ব বর্ধমানের গলসি এলাকার বাসিন্দা শামসুদ্দিন মিদ্যা একসময়ে মুম্বইয়ে সাধারণ শ্রমিকের কাজ করতেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি ওই এলাকার অন্যতম প্রতিষ্ঠিত চাল ব্যবসায়ী। গলসিতে তাঁর ৪টি রাইস মিল রয়েছে এবং চিন ও ভিয়েতনামের মতো দেশে নিয়মিত চাল রফতানি করেন তিনি। টাকা-পয়সার কোনো অভাব না থাকায় ছেলের আবদার পূরণ করতে একবিন্দুও কার্পণ্য করেননি তিনি।
শামসুদ্দিনের নিজের গাড়ি কেনার বেজায় শখ। তাঁর গ্যারাজে ইতিমধ্যেই Range Rover, Volvo, Mahindra Thar এবং Hyundai Alcazar-এর মতো বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। বাবার সেই শখই যেন সংক্রামিত হয়েছে ছেলের মধ্যে। অনেক আগে থেকেই বাবার কাছে একটি BMW গাড়ির আবদার করে রেখেছিল নবম শ্রেণির ছাত্র মহম্মদ তালহা।
মুম্বই থেকে স্পেশাল কন্টেনারে এল গাড়ি স্কুলের হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষায় দুর্দান্ত ফল করার পরেই বাবাকে পুরনো প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেয় তালহা। আর কালবিলম্ব না করে সোজা মুম্বই পাড়ি দেন বাবা। অন্ধেরির এক নামী শোরুম থেকে সরাসরি কিনে ফেলেন হলুদ রঙের একটি চোখ ধাঁধানো BMW M4 Competition।
বিশেষ কন্টেনারে করে সেই ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি শুক্রবারই এসে পৌঁছয় বর্ধমানের গলসির সেই গ্রামে। শুধু তাই নয়, গাড়ির ভিআইপি নম্বর প্লেটের জন্যও জলের মতো টাকা খরচ করেছেন শামসুদ্দিন। বলিউডের বাদশা শাহরুখ খানের মতো তাঁর একাধিক গাড়ির নম্বরের শেষ তিনটি সংখ্যা নির্দিষ্ট করা— ‘৫৫৫’।
গাড়ি পেলেও চালাবে কে? সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ১৫ বছরের কিশোর তালহা এখনও সাবালকই হয়নি, গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না! লাইসেন্স না থাকলেও হাতে চাবি পেয়ে সে বেজায় খুশি। এই প্রসঙ্গে পড়ুয়া নিজেই জানিয়েছে, “সপ্তাহে একদিন ঘুরতে বেরোব। বাবা গাড়ি চালাবে, আমি পাশে বসে থাকব।”
ছেলের এই বিলাসবহুল উপহার পাওয়ার খবর চাউর হতেই গোটা এলাকায় শোরগোল পড়ে গেছে। নেটপাড়ায় চলছে নানা আলোচনা ও মিমের ছড়াছড়ি। এ বিষয়ে বাবা শামসুদ্দিনের সহজ স্বীকারোক্তি, “ছেলে অনেক আগেই আমাকে বলেছিল, আব্বা একটা BMW চাই। তাই ওকে কিনে দিলাম।”