“আমায় খুন করতে চেয়েছিল!” জন্মদিনে কালীঘাটে ধুন্ধুমার কাণ্ডের পর সরাসরি বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

জন্মদিনের রাতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শুরু হয়ে শনিবার ভোর পর্যন্ত চলা দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সাংসদের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির মাঝেই তাঁর অনুগামী এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাঁধে। রাতভর চলা এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে খোদ পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন খোদ সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর প্রতিবাদে গভীর রাত থেকে একেবারে সকাল পর্যন্ত নিজের বাড়ির সামনেই অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন তিনি।
পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির সামনে জমায়েত বন্ধ করার জন্য কড়া নোটিস জারি করা হয় এবং ওই চত্বরে ১৬৩ ধারা বলবৎ করা হয়। অভিযোগ ওঠে, সংঘর্ষের সময় অভিষেকের একাধিক ব্যানার, ছবি ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। দুই পক্ষের মধ্যে চলা ইটবৃষ্টি ও পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে শাসক শিবির। এই ঘটনার পর অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “আজ একটি পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। হামলা চালিয়ে অফিস ভেঙে আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকী পুলিশ কর্মীদেরও মারা হয়েছে। কারও চোখের নিচের হাড় ভেঙে গিয়েছে। এত বড় বড় পাথর ও আধলা ইট ছোঁড়া হয়েছে, এবং পুরো ঘটনাটি পুলিশের সামনেই ঘটেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে এটি তাঁর ওপর প্রথম আক্রমণ নয়, এর আগেও ১৯ জুন সোনারপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল এবং বন্দুক নিয়ে তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সেদিন কর্মীরা হাতেনাতে ধরে ফেলায় প্রশাসনকে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে টাকা উদ্ধারের একটি ঘটনা নিয়েও রাজ্য পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি এবং আইজি-কে ইমেল পাঠিয়ে বিধায়ক শামিম আহমেদ অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে ফাঁসানোর জন্য জনৈক উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তার ব্যবহৃত একটি গাড়ি দিয়েই পার্টি অফিসে টাকা রেখে দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই গুরুতর অভিযোগের পর ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।