“১৪ শাকের নাম না জানলেই ঠকবেন!”-রোগ প্রতিরোধে প্রাচীন এই ঐতিহ্যের আসল রহস্য কি?

কালীপুজোর আগের দিন অর্থাৎ ভূত চতুর্দশীতে ঘরে ঘরে ১৪ শাক খাওয়ার নিয়ম মা-ঠাকুমাদের আমল থেকেই চলে আসছে। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে খাদ্যভ্যাসে নানা বদল এলেও, এই বিশেষ তিথিতে ১৪ শাক খাওয়ার রীতি আজও সমানে বজায় রয়েছে। আর তাই ভূত চতুর্দশীর সকালে বাজারগুলিতে শাক কেনার জন্য উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

তবে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এক নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের অনেকেই ১৪ শাকের আসল নাম বা চেহারা চেনেন না। এই সুযোগে বাজারে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় ঘাস-পাতা মেশানো শাক বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে। প্রতারণা এড়াতে এবং সুস্থ থাকতে আগে থেকেই জেনে নেওয়া প্রয়োজন আসল ১৪ শাকের তালিকা ও এর স্বাস্থ্যগুণ।

আসল ১৪ শাক কী কী?

আয়ুর্বেদ ও শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী এই ১৪টি শাকের মিশ্রণই হলো আসল ১৪ শাক:

১. ওল শাক

২. কেঁউ শাক

৩. বেতো শাক

৪. কালকাসুন্দে

৫. সর্ষে শাক

৬. নিম পাতা

৭. জয়ন্তী শাক

৮. শাঞ্চে (সাঞ্চাল) শাক

৯. গুলঞ্চ পাতা

১০. পলতা পাতা

১১. ঘেঁটু বা ভাঁট পাতা

১২. হিঞ্চে শাক

১৩. সুষনি শাক

১৪. শালুকা পাতা

কেন খাওয়া হয় এই ১৪ শাক? (বিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদিক কারণ)

ভূত চতুর্দশীর সময়টি হলো হেমন্তের সূচনা। এই সময়ে ঋতু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ায় আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা কমে আসে, যা সর্দি-কাশি, ভাইরাল ফিভার এবং পেটের নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ১৪টি শাকের প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা ঔষধি গুণ রয়েছে। এর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ও নানা ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে শরীরকে সংক্রামক ব্যাধি থেকে রক্ষা করতেই আমাদের প্রাচীন মনীষী ও শাস্ত্রকাররা এ দিন ১৪ শাক খাওয়ার নিয়ম প্রবর্তন করেছিলেন।

১৪ শাক রান্নার ঐতিহ্যবাহী ও সহজ রেসিপি

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

কুচানো ১৪ শাক (ভালো করে ধুয়ে নেওয়া), সর্ষের তেল, কালো জিরে, শুকনো লঙ্কা, কাঁচা লঙ্কা কুচি, সামান্য আদা বাটা, হলুদ গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, নুন, চিনি এবং স্বাদ বাড়ানোর জন্য সামান্য আমচুর পাউডার। (যাঁরা আমিষ বা পেঁয়াজ-রসুন দিয়ে করতে চান, তাঁরা পেঁয়াজ ও রসুন কুচি যোগ করতে পারেন। নিরামিষ করতে চাইলে রসুন-পেঁয়াজ পুরোপুরি বাদ দেবেন।)

সহজ রান্নার পদ্ধতি:

১. কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে কালো জিরে ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন।

২. এবার কাঁচা লঙ্কা এবং (ইচ্ছা হলে) রসুন ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা সাঁতলে নিন।

৩. এরপর আদা বাটা এবং হলুদ, ধনে ও লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে মশলা ভালো করে কষে নিন। প্রয়োজনে সামান্য টমেটো কুচিও দিতে পারেন।

৪. মশলা কষা হলে আগে থেকে বেছে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখা শাক কড়াইয়ে দিয়ে দিন।

৫. স্বাদমতো নুন ও চিনি দিয়ে নেড়েচেড়ে আঁচ কমিয়ে ২ মিনিটের জন্য ঢাকা দিন।

৬. শাক থেকে জল বেরোলে ঢাকনা খুলে আঁচ বাড়িয়ে দিন এবং ভালো করে কষাতে থাকুন।

৭. জল শুকিয়ে এলে ওপর থেকে সামান্য আমচুর পাউডার ও কাঁচা সর্ষের তেল ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ১৪ শাক ভাজা।