ভোটার কার্ড থাকলেই মিলবে সরকারি সুবিধা! মোদী সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোক নিয়ে কেন ফুঁসে উঠলেন রাহুল গান্ধী?

কल्याणकारी বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভোটার পরিচয়পত্রকে প্রধান শর্ত হিসেবে সংযুক্ত করার সরকারি উদ্যোগ নিয়ে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে সরব হয়ে কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শুক্রবার সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এক অভিনব ও গুরুতর ‘ভোট ও অধিকার চুরির’ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পঞ্চायती রাজমন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংয়ের একটি ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যম এক্সে (পূর্বে টুইটার) তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। ওই ঘোষণায় জানানো হয়েছিল যে, দেশের সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় যাচাই করতে এবার থেকে আধার কার্ডের পরিবর্তে মূলত ভোটার আইডি কার্ডের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।
রাহুল গান্ধীর মূল আপত্তির জায়গাটি হলো, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অত্যন্ত গোপনে এবং দ্রুতগতিতে যে ‘বিশেষ गहन पुनरीक्षण’ বা ভোটার তালিকার বিশেষ তীব্র সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে, তার সঙ্গে এই নতুন সরকারি নীতিটি সরাসরি যুক্ত। তাঁর অভিযোগ, এই বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়ার আড়ালে সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর দাবি, এই গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মূল নিশানা হলেন সেই সমস্ত সাধারণ মানুষ ও নাগরিকেরা, যাঁরা বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং যাঁরা অতীতে বিজেপিকে ভোট দেননি। সরকার বিরোধী এই মনোভাৱাপন্ন ভোটারদের পদ্ধতিগতভাবে নির্বাচনী মানচিত্র ও তালিকা থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য করে দেওয়ার এক গভীর নীলনকশা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শাসক দলের সঙ্গে গোপন আঁতাত ও যোগসাজশের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন যে, ভোটার তালিকা আজ সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে, যার ফলে বিরোধীদের টার্গেট করে ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ঘৃণ্য খেলা চলছে। রাহুল গান্ধী আরও তীব্র ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন যে, তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অর্থ হল সাংবিধানিক ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া, আর ভোট চলে যাওয়ার অর্থ হল দেশের সংবিধানপ্রদত্ত সমস্ত নাগরিক অধিকার চিরতরে হরণ করা।
এর ফলে দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ গণতন্ত্রের বৃহত্তর পরিমণ্ডলে সম্পূর্ণ ‘অদৃশ্য নাগরিক’-এ পরিণত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন যেমন—রেশন ব্যবস্থা, মাসিক পেনশন, মনরেগা (MGNREGA) প্রকল্পের কাজ, সরকারি আবাস যোজনা, ছাত্রবৃত্তি এবং বিভিন্ন সংরক্ষিত আসন ও সুবিধার মতো মৌলিক অধিকারগুলি পাওয়ার জন্য কি তবে এবার থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ভোটার আইডি কার্ডের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে? তাঁর মতে, এটি কেবল রাজনৈতিক ময়দানে সাধারণ নির্বাচন জেতার কোনো সুস্থ লড়াই নয়, বরং চিরকালের মতো নির্বাচন প্রক্রিয়াকরণ ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার চুরি করার একটি সুদূরপ্রসারী এবং স্থায়ী রাজনৈতিক বন্দোবস্ত।