দীপাবলির আগেই গ্যাসচেম্বার দিল্লি! AQI ছাড়াল ৩৮২, কড়া বিধিনিষেধ জারির পরই বড় সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

দীপাবলির আর মাত্র দু’টি দিন বাকি। তার আগেই চরম বায়ুদূষণের কবলে পড়ে কার্যত গ্যাসচেম্বারে পরিণত হয়েছে দিল্লি ও সংলগ্ন জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (NCR)। বাতাসের গুণমান লাগাতার অবনতির দিকে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ করল কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (CAQM)। দিল্লির সামগ্রিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI একলাফে ৩৮২-তে পৌঁছে যাওয়ার পরেই গোটা অঞ্চলে জারি করা হয়েছে ‘গ্র্যাপ-৩’ (GRAP-III) বা গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের তৃতীয় স্তরের কঠোর বিধিনিষেধ।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সমস্ত ধরনের নির্মাণ এবং ভাঙার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাটি খোঁড়া, পাইলিং, ট্রেঞ্চিং এবং খোলা আকাশের নিচে রেডি মিক্স কংক্রিট প্ল্যান্ট চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া বালি, সিমেন্ট-সহ যেকোনো নির্মাণসামগ্রী পরিবহণের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা রাস্তার ওপর দিয়ে এই ধরনের সামগ্রী নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাথর ভাঙার কারখানা, খনি এবং ধুলো-ধোঁয়া ছড়ায় এমন হট মিক্স প্ল্যান্টগুলিও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও বড়সড় কোপ পড়েছে। দিল্লি এবং সংলগ্ন এনসিআর জেলাগুলিতে বিএস-৩ (BS-3) পেট্রল এবং বিএস-৪ (BS-4) ডিজেল চালিত চারচাকার গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, অন্য রাজ্য থেকে আসা ডিজেল বাসগুলির দিল্লিতে প্রবেশ ও চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি পরিষেবা ছাড়া ডিজেল জেনারেটর ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষ ও শিশুদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে একাধিক বিশেষ পদক্ষেপ করা হয়েছে। দূষণের মারাত্মক গ্রাস থেকে ছোটদের বাঁচাতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত স্কুল বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বায়ুদূষণ কমাতে বেসরকারি ও কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা হাইব্রিড পদ্ধতিতে কাজ করানোর জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীপাবলির আনন্দ উদযাপনের ঠিক আগে দিল্লির এই ভয়ঙ্কর দূষণ পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।