২০ মিনিটে ৩৮ রাউন্ড ফায়ারিং, পুলিশের গুলিতে মৃত ৩, জখম থানা ইনচার্জ

PACS চেয়ারম্যান খুনের মামলার তদন্তে নেমে এক রক্তক্ষয়ী ও রোমহর্ষক এনকাউন্টারের সাক্ষী থাকল বিহারের রাজধানী পাটনা। শুক্রবার সকালে পাটনার মানের থানা এলাকার অন্তর্গত শেরপুর অঞ্চলে পুলিশ ও কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছে তিনজন। এই আকস্মিক সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন মানের থানার পুলিশ আধিকারিক রজনীশ কুমারও।

নিহত তিন দুষ্কৃতীর পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। তারা হলো—জেপি যাদব, বাবলু কুমার এবং রাজেশ শর্মা।

ঠিক কী ঘটেছিল শেরপুরে?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগেই প্রাইমারি এগ্রিকালচার ক্রেডিট সোসাইটি (PACS)-এর চেয়ারম্যান সঞ্জিত কুমারকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পরেই মূল অভিযুক্ত জেপি যাদব, বাবলু কুমার ও রাজেশ শর্মা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তাদের গ্রেফতারে দীর্ঘদিন ধরেই তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ।

শুক্রবার ভোরে গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায় যে, শেরপুরে গঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে পলাতক জেপি যাদব ও তার দুই সহযোগী। আর এই খবরের ভিত্তিতেই কালবিলম্ব না করে ওই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে অভিযান চালানো হয়।

২০ মিনিটে ৩৮ রাউন্ড গুলি! রণক্ষেত্র এলাকা

পুলিশ ঘেরাও করতেই কোণঠাসা দুষ্কৃতীরা অতর্কিত হামলা চালায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে তারা। দুষ্কৃতীদের ছোড়া একটি গুলি সজোরে গিয়ে লাগে মানের থানার ইনচার্জ রজনীশ কুমারের বাঁ হাতে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আত্মরক্ষার্থে এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাধ্য হয়েই পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও।

পুলিশ ও দুষ্কৃতীদের মধ্যে টানা ২০ মিনিট ধরে চলা এই তুমুল গুলির লড়াইয়ে মোট ৩৮ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে বলে খবর। এর মধ্যে দুষ্কৃতীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রায় ২০ রাউন্ড গুলি চালায় এবং পুলিশ তাদের প্রতিহত করতে পাল্টা ১৮ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পুলিশের গুলিতেই ঝাঁঝরা হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে ওই তিন দুষ্কৃতী।

হাসপাতালে মৃত বলে ঘোষণা

গুলির লড়াই থামার পর ত্বরিত গতিতে আহত তিন অভিযুক্তকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাঁদের পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পাটনার পুলিশ সুপার কার্তিকেয় শর্মা পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

PACS চেয়ারম্যান খুনের বদলায় পুলিশের এই அதிரদার এনকাউন্টার এবং টানা গুলির লড়াইয়ের ঘটনায় গোটা পাটনা জুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।