হাতে আর মাত্র কয়েক মাস! বেতন ও পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে চরম জল্পনা, নজরে ৮ম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার আলোর মুখ দেখতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত অষ্টম বেতন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের এই অস্থায়ী প্যানেল বর্তমানে বিভিন্ন যোগ্য কর্মচারী ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনের প্রস্তাবগুলো নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন পার্ট-টাইম সদস্য অধ্যাপক পুলক ঘোষ এবং সদস্য-সচিব পঙ্কজ জৈন। ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর গঠিত এই কমিশনের কার্যকালের মেয়াদ ১৮ মাস নির্ধারিত হলেও, ইতিমধ্যে ১২ মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। আগামী ২০২৭ সালের মে-জুন নাগাদ কেন্দ্র সরকারের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে এই কমিশনের।
চলতি বেতন কাঠামোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান নিয়মানুযায়ী, নতুন মূল বেতন নির্ধারণের সূত্রটি হলো—বর্তমান মূল বেতন গুণিতক ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। ইতিপূর্বে ষষ্ঠ বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ১.৮৬ এবং সপ্তম বেতন কমিশনে তা ২.৫৭ নির্ধারিত হয়েছিল, যার ফলে ন্যূনতম মূল বেতন বেড়ে হয়েছিল ১৮,০০০ টাকা। তবে এবার বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন আরও আকর্ষণীয় ও উচ্চ হারের দাবি তুলেছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মজদুর সংঘ (BPMS) সর্বোচ্চ ৪.০০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের প্রস্তাব দিয়েছে, যা কার্যকর হলে ন্যূনতম মূল বেতন একলাফে বেড়ে ৭২,০০০ টাকা হতে পারে। অন্যদিকে, এনসি-জেসিএম (NC-JCM) এবং ভারত পেনশনার্স সমাজ ৩.৮৩৩ ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে ন্যূনতম মূল বেতন ৬৯,০০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে। এছাড়া সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মিনিস্টেরিয়াল স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন ৩.৬১ ফ্যাক্টরের পক্ষে সওয়াল করে ন্যূনতম বেতন ৬৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাব পেশ করেছে।
বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রস্তাবিত এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে প্রায় ৭,০০০ টাকার পার্থক্য রয়েছে। এনসি-জেসিএম একটি বিস্তৃত পে ম্যাট্রিক্সও প্রস্তাব করেছে, যেখানে লেভেল ১-এ ৬৯,০০০ টাকা, লেভেল ৬-এ ১,৩৫,৭০০ টাকা এবং লেভেল ৯ ও ১০-এ ২,১৫,১০০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতনের রূপরেখা টানা হয়েছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সমস্ত অঙ্ক ও প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলির নিজস্ব দাবি মাত্র। কমিশন চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও সরকার সমস্ত দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। সরকারের সবুজ সংকেত মিললেই আগামী এক দশক ধরে দেশের কোটি কোটি কেন্দ্রীয় কর্মচারী ও পেনশনভোগীর আর্থিক পরিকাঠামো এই নতুন বেতন কাঠামোর দ্বারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত হবে।