খুঁটি পুঁতে ফেলে রেখেছিল সরকার, অবশেষে ঘরের আলোয় দিওয়ালি উদযাপন হুগলির আদিবাসীদের!

স্বাধীনতার দীর্ঘ প্রায় আটটি দশক পার হয়ে গেলেও যে অন্ধকার ঘুচেনি, অবশেষে দীপাবলির প্রাক্কালে সেই অভিশপ্ত ইতিহাসের অবসান ঘটল। হুগলি জেলার তারকেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের অষ্টরদত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন সম্পূর্ণ আদিবাসী অধ্যুষিত চকদহ গ্রামে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন যে গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের আলো পৌঁছায়নি, সেখানকার প্রায় ৪০০ আদিবাসী পরিবার এবার জীবনের প্রথমবার ঘরময় আলোর রোশনাইয়ের মালায় সত্যিকারের দীপাবলি উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছে। বংশপরম্পরায় কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল এই এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এতদিন সন্ধ্যা নামলেই মোমবাতি কিংবা হারিকেনের টিমটিমে আলোই ছিল একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগে এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাতে কোনো তার লাগানো হয়নি। ফলে খুঁটিগুলো দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো দিন ঘরে আলো জ্বলেনি। এর জেরে শিশুদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে রাতের গৃহস্থালির কাজকর্ম চরমভাবে ব্যাহত হতো। কিন্তু এবার স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান এবং জেলা বিদ্যুৎ দফতরের উদ্যোগে চকদহ গ্রামের মোড় ঘুরে গেছে। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে পঞ্চাশটিরও বেশি বাড়িতে নতুন মিটার বক্স লাগানো হয়ে গেছে এবং একশোটিরও বেশি পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে। বিশেষ করে বিপিএল তালিকাভুক্ত দরিদ্র পরিবারগুলোকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।
গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক অবহেলা ও দীর্ঘ বঞ্চনার কারণেই এতদিন তাঁদের গ্রাম অন্ধকারে ডুবে ছিল। তবে বর্তমান উদ্যোগে গ্রামের আদিবাসী পরিবারগুলোর ঘরে ঘরে এখন বাল্ব জ্বলছে, ফ্যান ঘুরছে এবং মোবাইল চার্জ দেওয়ার মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও সাধারণ মানুষের নাগালে আসছে। অন্ধকার কাটিয়ে চলা এই দীর্ঘ সংগ্রামের পর চকদহ গ্রামের প্রতিটি মানুষের মুখে এখন চওড়া হাসি। অনেকেই বলছেন, এটি কেবল বিদ্যুৎ সংযোগ নয়, বরং এক নতুন যুগের এবং সভ্যতার আলোয় ফেরার ঐতিহাসিক সূচনা।