কালো ধোঁয়ায় ঢাকল আকাশ, ছাই বিপুল টাকার সম্পত্তি! ঘটনাস্থলে ২২টি দমকল

ধনতেরাসের আনন্দ ও আলোর রোশনাইয়ের মাঝেই রাজধানী নয়াদিল্লিতে ঘটে গেল মর্মান্তিক ও ভয়াবহ বিপর্যয়। মধ্যরাতে আচমকাই দাউদাউ করে জ্বলে উঠল নয়াদিল্লির অত্যন্ত জনবহুল ও বিখ্যাত করোলবাগের গফফর মার্কেট। মুহূর্তে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। একটি চার তলা বাণিজ্যিক ভবনে লাগা এই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের অন্তত ২২টি ইঞ্জিনকে টানা ৪ ঘণ্টা তীব্র বেগ পেতে হয়।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সময়মতো তৎপরতার কারণে এই অগ্নিকাণ্ডে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের খবর মেলেনি। তবে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক সামগ্রী।
কীভাবে ছড়ালো আগুন?
দমকল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল ছিল চার তলার ওই বাণিজ্যিক ভবন ‘পুরী প্লাজ়া’। এই ভবনে মূলত স্মার্টফোন, গ্যাজেট এবং মোবাইল ফোন সারানোর নানাবিধ যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম বিক্রি করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে একটা নাগাদ আচমকাই ভবনটির ভেতর থেকে আগুনের লেপন শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। পুলিশ ও তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, প্লাজ়ার একতলায় অবস্থিত একটি দোকানে প্রচুর পরিমাণে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি মজুত ছিল। কোনো কারণে অতিরিক্ত গরম হয়ে বা শর্ট সার্কিট থেকে একটি ব্যাটারিতে বিস্ফোরণ ঘটে, আর সেখান থেকেই আগুন দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে চার তলা ভবনের সর্বত্র।
ঘটনাস্থলে ২২টি দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স
আগুনের ভয়াবহতা দেখে নিমেষের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় করোলবাগ থানার পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। একে একে হাজির হয় দমকলের অন্তত ২২টি ইঞ্জিন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স এবং পুলিশ কন্ট্রোল রুমের একাধিক বিশেষ দল সেখানে মোতায়েন করা হয়।
প্রায় চার ঘণ্টার টানা আপ্রাণ চেষ্টার পর ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন দমকল কর্মীরা।
ফরেন্সিক দল ও পুরনিগমের বিশেষ পদক্ষেপ
শুক্রবার সকালে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পৌঁছায় ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (FSL) একটি বিশেষজ্ঞ দল। পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া দোকানগুলি থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ফলে বহুতলটির মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না এবং ভবনটি পুনর্নবীকরণ বা ব্যবহারের উপযুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাচ্ছে দিল্লি পুরনিগম (MCD)। তাঁদের দেওয়া টেকনিক্যাল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই ভবনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। উৎসবের মরশুমে কোটি কোটি টাকার এই ক্ষয়ক্ষতিতে মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।