গঙ্গার ঘাটে কুখ্যাত গ্যাংস্টারদের সঙ্গে পুলিশের তাণ্ডব! এনকাউন্টারে খতম মূল ষড়যন্ত্রকারী সহ ৩

বিহারের রাজধানী পটনায় শুক্রবার ভোরে পুলিশ ও দুষ্কৃতীদের মধ্যে সংঘটিত এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গোটা রাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মনের থানা এলাকার শেরপুর গঙ্গাঘাটের নিকটবর্তী অঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে এই সশস্ত্র সংঘর্ষে তিন অভিযুক্ত দুষ্কৃতীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহত অপরাধীদের পরিচয় জে পি যাদব, বাবলু কুমার এবং রাজা শর্মা ওরফে সূরজ কুমার হিসেবে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের সুনির্দিষ্ট দাবি অনুযায়ী, নিহত এই দুষ্কৃতীরা গত কিছুদিন পূর্বে সংঘটিত মনেরের প্যাক্স (প্রাইমারি এগ্রিকালচার ক্রেডিট সোসাইটি) সভাপতি সংজিৎ কুমার ওরফে ভোলু হত্যাকাণ্ডে সরাসরি এবং প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। এই দুপক্ষের তুমুল গুলির লড়াই চলাকালীন দুষ্কৃতীদের নিক্ষিপ্ত গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন মনের থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা এসএইচও রজনীশ কুমার। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত বিবরণে প্রকাশ, শুক্রবার ভোররাত আনুমানিক তিনটে নাগাদ শেরপুর গঙ্গাঘাট সংলগ্ন নিঝুম এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পটনা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং জেলা পুলিশের একটি বিশেষ যৌথ দল গোপন সূত্রে অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট অবস্থানের খবর পেয়ে ওই এলাকায় আকস্মিক অভিযান চালায়। পুলিশের কাছে গোয়েন্দা মারফত খবর ছিল যে, সংজিৎ কুমার খুনের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত জে পি যাদব তার দুই সশস্ত্র সহযোগীকে নিয়ে গঙ্গা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় আত্মগোপন করে রয়েছে এবং সেখানে বসে তারা নতুন কোনো মারাত্মক অপরাধমূলক নাশকতার ছক কষছে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বাহিনী তৎক্ষণাৎ ওই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে যে, পুলিশের দলকে আকস্মিকভাবে সামনে এগিয়ে আসতে দেখেই অভিযুক্ত দুষ্কৃতীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। জীবন বাঁচাতে এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশও সঙ্গে সঙ্গে পালটা জবাব দেয়। উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত তীব্র ও ভয়ঙ্কর গতিতে প্রায় ২০ মিনিট ধরে একটানা গুলির লড়াই চলতে থাকে। পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে দুষ্কৃতীদের পক্ষ থেকে ২৪ রাউন্ড এবং পুলিশের পক্ষ থেকে আত্মরক্ষার্থে ১৮ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।
এই দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাঝেই মনের থানার ওসি রজনীশ কুমার দুষ্কৃতীদের গুলিতে বিদ্ধ হন। তাঁর হাতের কাছাকাছি গুলি লাগলেও তিনি হাল ছাড়েননি এবং আহত অবস্থাতেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। অবশেষে গুলির লড়াই থামার পর ঘটনাস্থলে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ মারাত্মক জখম অবস্থায় তিনজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে। তাদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহত তিন দুষ্কৃতীর মধ্যে জে পি যাদবকে সংজিৎ কুমার খুনের মূল মাস্টারমাইন্ড বা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, বাবলু কুমার এবং রাজা শর্মা ওরফে সূরজ কুমারের বিরুদ্ধে ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি শুটারের ভূমিকা পালনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের রেকর্ড বলছে, এই তিনজনের বিরুদ্ধেই একাধিক গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার লম্বা ইতিহাস রয়েছে। মনের থানা ছাড়াও পটনা জেলার আশেপাশের বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক খুন ও extortion-এর মামলা ঝুলে রয়েছে। পটনার এসএসপি কার্তিকেয় কে শর্মা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই এই যৌথ এনকাউন্টার অপারেশন চালানো হয়েছিল। অভিযুক্তরা প্রথমে আইনকে তোয়াক্কা না করে পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়, যার ফলে পুলিশ বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ইতিমধ্যেই দুটি আধুনিক পিস্তল, একটি দেশি কাট্টা এবং বেশ কিছু তাজা ও ফায়ার করা গুলির খোল উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থলে এসে সমস্ত বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং শেরপুর গঙ্গাঘাট এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।