হাওড়ায় তোলাবাজদের উপদ্রব চরমে! প্রতিবাদ করতেই ক্রেতাদের রাস্তায় ফেলে মারধর, নামাতে হলো র্যাফ!

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্থানীয় অপরাধ দমনের দাবিকে ফের এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল হাওড়ার ডোমজুড় থানা এলাকার বাঁকড়া পশ্চিমপাড়া থেকে উঠে আসা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং শিহরণ জাগানো একটি ঘটনা। মুদির দোকান থেকে জোরজুলুম করে তোলা আদায়ের এক অন্ধকার চিত্র প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য একটি দেশলাই কেনার ছলে একটি মুদির দোকানে খদ্দের সেজে প্রবেশ করে একদল দুষ্কৃতী। এরপর দোকানের মালিকের কাছে বেআইনিভাবে টাকা বা তোলা দাবি করা হয়। দোকানের পক্ষ থেকে সেই অনৈতিক দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হলে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি হিংসাত্মক রূপ নেয়। দুষ্কৃতীরা ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানের মালিক, তাঁর ছেলে এবং উপস্থিত ক্রেতাদের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁদের অত্যন্ত বেধড়কভাবে মারধর করে।
এই অতর্কিত হামলায় এক মহিলাসহ মোট তিনজন সাধারণ মানুষ গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ও আহত ব্যক্তিরা দ্রুত ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। কিন্তু এর পরের ঘটনা আরও বেশি উদ্বেগজনক। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্দেশ্যে যখন আক্রান্তরা সোজা ডোমজুড় থানার দিকে অভিযোগ দায়ের করার জন্য রওনা হন, ঠিক তখনই থানার কাছাকাছি রাস্তায় ফের ওই দুষ্কৃতী বাহিনী ওঁৎ পেতে তাদের ওপর চড়াও হয়। ডোমজুড় থানার অত্যন্ত কাছাকাছি রাস্তায় ফেলে বেপরোয়াভাবে তাদের ওপর আবারও চড়াও হয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। থানার নাকের ডগায় এহেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতির চরম অবনতি দেখে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী ও স্পিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফ (RAF)। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়, যার ফলে এলাকায় সাময়িকভাবে হুড়োহুড়ি ও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের প্রধান অভিযোগ হলো, দীর্ঘদিন ধরেই বাঁকড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় একদল স্থানীয় অস্ত্রধারী ও দাপুটে তোলাবাজ দুষ্কৃতী অবাধে ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে। সাধারণ দোকানদার থেকে শুরু করে ক্রেতা—কাউকেই তারা রেয়াত করছে না এবং নিয়মিতভাবে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। এই কাপুরুষোচিত ও নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের পাহাড় জমেছে। বর্তমানে ডোমজুড় থানার পুলিশ ঘটনার তীব্র ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।