পার্টি অফিসে কোটি টাকার খাতা খুলতেই তোলপাড়! শমীকের বোমা, ‘গোটা ডায়মন্ড হারবার তৃণমূলের জেলে থাকা উচিত’

ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস থেকে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল অর্থ নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘পুলিশের তৈরি দুর্বল চিত্রনাট্য’ বলে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরই পাল্টা তোপ দেগেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বিজেপি-র অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘সেবাশ্রয়টা কী ছিল? পুরো ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল কংগ্রেসের সকলের জেলে ঢুকে যাওয়া উচিত। নিরপরাধ মানুষকে খুন, ২০১৯-এর নির্বাচন মানুষ কিন্তু ভোলেননি। প্রার্থীকে গণনাকেন্দ্রের মধ্যে পিটিয়ে খুন করা—এগুলো সব তৃণমূল কংগ্রেসেরই দান। কেউ পার পাবেন না। সমস্ত অপরাধীকে ঠিক সময়ে পাতাল থেকে খুঁড়ে বের করে আনা হবে। কড়া হিসাব নেওয়া হবে।’’

এর আগে কালীঘাটে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের বিরুদ্ধে মারাত্মক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, “কাল থেকে যে খবরটি চলছে যে ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় একটি পার্টি অফিস থেকে আমার আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে কাস্টডিতে নিয়ে রেইড করে ১ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, পুলিশ কতটা অপদার্থ হলে এত দুর্বল চিত্রনাট্য রচনা করতে পারে!” ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে অভিষেক দাবি করেন, উক্ত পার্টি অফিসটি গত ২১ মে মালিককে ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ২২ মে এই সংক্রান্ত একটি ই-মেইল চিঠি ডায়মন্ড হারবার থানার ওসি-কে পাঠানো হয়। তাঁর অভিযোগ, সেই রাতে বিজেপির দুষ্কৃতীরা ওই পার্টি অফিসে তাণ্ডব চালায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বিস্ফোরক দাবি তুলে ডায়মন্ড হারবারের আইসি ও এসপি-র বিরুদ্ধে টাকা সাজিয়ে রাখার (প্ল্যান্ট করার) সরাসরি অভিযোগ আনেন। তাঁর দাবি, ৩ তারিখের পর ৪ তারিখ মধ্যরাতে রাত ১টা থেকে ৩টের মধ্যে ডায়মন্ড হারবারের আইসির ব্যবহৃত একটি কালো রঙের এক্সইউভি ৩০০ গাড়ি করে টাকার ব্যাগ এনে পার্টি অফিসে রাখা হয়। পুলিশের উদ্দেশে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমার কাছে এর সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। পুলিশ পারলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুক, আমি আদালতে সব প্রমাণ জমা দেব।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, পুলিশ ও প্রশাসনিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তাঁরা সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন।