পেনশনভোগীদের জন্য জরুরি অ্যালার্ট! এই তারিখের মধ্যে সার্টিফিকেট জমা না দিলে আটকে যেতে পারে টাকা

পেনশনভোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশিকা জারি করল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)। ২০২৬ সালের জন্য জীবন প্রমাণপত্র বা ‘জীবন প্রমাণ’ (Jeevan Pramaan) সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার শেষ তারিখ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এই শংসাপত্র জমা না দিলে পেনশন চালুর ক্ষেত্রে বড়সড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পেনশন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঘরে বসেই কীভাবে জমা দেবেন জীবন প্রমাণপত্র?

পেনশনভোগীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পুরো প্রক্রিয়াটিকে এখন অনেকটাই সহজ করে দেওয়া হয়েছে। ঘরে বসেই বা নিকটবর্তী কেন্দ্র থেকে খুব সহজেই এই ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়া সম্ভব:

  • UMANG অ্যাপের মাধ্যমে: স্মার্টফোনে উমাং (UMANG) অ্যাপ ব্যবহার করে ফেস অথেন্টিকেশনের (Face Authentication) মাধ্যমে ঘরে বসেই ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়া যায়।

  • ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্ক (IPPB): এই ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাড়িতে বসেই ডোরস্টেপ (Doorstep) পরিষেবার সুবিধা নেওয়া যায়।

  • অফিস বা সিএসসি (CSC): চাইলে নিকটবর্তী EPFO অফিস কিংবা কমন সার্ভিস সেন্টারে (CSC) গিয়েও এই কাজ সহজেই করা সম্ভব।

জীবন প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার জন্য কী কী নথির প্রয়োজন?

ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার আগে কয়েকটি প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি হাতের কাছে রাখা বাধ্যতামূলক:

  1. সক্রিয় আধার নম্বর, যা পেনশনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিংক করা রয়েছে।

  2. পেনশন পেমেন্ট অর্ডার (PPO) নম্বর।

  3. সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের শাখার মতো পেনশন প্রদানকারী সংস্থার তথ্য।

  4. ওটিপি (OTP) পাওয়ার জন্য একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর।

জীবন প্রমাণ আসলে কী?

এটি মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের চালু করা একটি আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট। পেনশনভোগী ব্যক্তি যে জীবিত রয়েছেন, তার প্রমাণ হিসেবেই এটি ব্যবহৃত হয়। এর ফলে প্রতি বছর ব্যাঙ্কে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কাগজে-কলমে জীবন প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি পেয়েছেন প্রবীণ নাগরিকরা। তাই কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে ৩০ নভেম্বরের ডেডলাইনের আগেই দ্রুত এই কাজ সেরে ফেলার অনুরোধ করা হচ্ছে।