ফ্রিজে ভালোবাসার মৃতদেহ! তিন বছর ধরে সঙ্গীর লাশের পাশেই থাকত ৫টি পোষা প্রাণী, যুক্তরাজ্যের ঘটনায় শিউরে উঠল আদালত

ব্রিটেনে এক হাড়হিম করা ও নারকীয় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে, যা শুনে খোদ বিচারক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সকলেই হতবাক। নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু তথা ‘আত্মার সঙ্গী’ (Soulmate)-কে নির্মমভাবে হত্যা করে তাঁর মৃতদেহ টানা ৩ বছর একটি বিশাল ফ্রিজারে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠল ৬৫ বছর বয়সী জর্জ গর্ডন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত গর্ডন ৬২ বছর বয়সী বিশিষ্ট শিল্পী ডেলিয়া ম্যাকইনার্নিকে হত্যা করেছিলেন। আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, ডেলিয়ার আদরের ৫টি পোষা গিনিপিগকেও জলে ডুবিয়ে মেরে একই ফ্রিজারে রেখে দিয়েছিলেন তিনি।

১. পর্তুগালে নতুন জীবনের স্বপ্ন ও নির্মম হত্যাকাণ্ড

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেলিয়া ম্যাকইনার্নি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে নিজের প্রিয় পাঁচটি পোষা গিনিপিগ নিয়ে পর্তুগালে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। সেখানে এক নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন ছিল তাঁর। ২০২৩ সালের ১১ই এপ্রিল ডেলিয়া তাঁর শেষ একটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যেখানে তাঁকে তাঁর পোষা প্রাণীগুলোর সঙ্গে হাসিখুশি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু প্রসিকিউটরদের অনুমান, সেই রাতেই অথবা ১২ই এপ্রিল সকালে তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন জর্জ গর্ডন।

২. অ্যামাজন থেকে ফ্রিজার অর্ডার এবং প্রাণীদের জলে ডুবিয়ে হত্যা

হত্যার পর অপরাধ ঢাকতে গর্ডন যে চরম নৃশংসতার পরিচয় দেন, তা শিউরে ওঠার মতো। আইনজীবী জানান, ডেলিয়াকে মারার পরপরই ই-কমার্স সাইট ‘অ্যামাজন’ থেকে একটি বড় সাইজের চেস্ট ফ্রিজার অর্ডার করেন গর্ডন। লাশটি লুকিয়ে রাখার পাশাপাশি তিনি ডেলিয়ার ৫টি পোষা গিনিপিগকেও একে একে পানিতে ডুবিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন এবং তাদের মৃতদেহগুলোও ডেলিয়ার দেহের পাশেই একই ফ্রিজারে পুরে মুখ বন্ধ করে দেন।

৩. মৃত ডেলিয়ার পরিচয় ব্যবহার করে ৩ বছর ধরে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট

সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, দীর্ঘ ৩ বছর ধরে ডেলিয়ার পরিবার বা বন্ধুদের মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ জাগতে দেননি গর্ডন। তিনি ডেলিয়ার মোবাইল ও মেল আইডি ব্যবহার করে পরিচিতদের নিয়মিত মেসেজ ও ইমেল পাঠাতে থাকেন, যাতে সবাই মনে করে ডেলিয়া পর্তুগালে শান্তিতেই আছেন। এই সময়ের মধ্যে মৃত ডেলিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে হাজার হাজার পাউন্ড তুলে নেন গর্ডন। এমনকি তাঁর নামে ব্যাংক ঋণ এবং নতুন ক্রেডিট কার্ড নিয়ে বিপুল অর্থ নয়ছয় ও লোপাট করেন।

অবশেষে ২০২৬ সালের ৮ই জানুয়ারি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ যখন গর্ডনের অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালায়, তখন ফ্রিজারের দরজা খুলতেই বেরিয়ে আসে এই ভয়াবহ ও বিভৎস সত্য। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করে আইনি বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের আদালত।