জেলেই কাটবে দিওয়ালি! ত্বিশা শর্মা মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন বিচারপতি গিরিবালা সিং, হাইকোর্ট খারিজ করল জামিন

মধ্যপ্রদেশের অত্যন্ত আলোচিত ও সংবেদনশীল ত্বিশা শর্মা আত্মহত্যা মামলায় আইনি লড়াইয়ে বড় ধরণের বিপাকে পড়েছেন অভিযুক্ত শাশুড়ি ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গিরিবালা সিং। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এর ফলে এই উৎসবের মরশুমেও তাঁকে কারাগারেই দিওয়ালি কাটাতে হচ্ছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি অজয় কুমার নিরঙ্কারীর একক বেঞ্চ এই মামলার তীব্রতা, এখনও পর্যন্ত সংগৃহীত চাঞ্চল্যকর প্রমাণ এবং তদন্তের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জামিন দিতে অস্বীকার করেন। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, মামলার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক রিপোর্টগুলো এখনও হাতে আসেনি, যা এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি।

কেন খারিজ হলো জামিন?

গত ২৬শে অক্টোবর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে এই জামিন সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে শুনানি চলেছিল। সেখানে আসামিপক্ষ, সিবিআই এবং বাদীপক্ষের আইনজীবীরা পাল্টাপাল্টি জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। দীর্ঘ সওয়াল-জওয়াবের পর আদালত রায় সংরক্ষিত রেখেছিল এবং সম্প্রতি এই জামিন আবেদন খারিজ করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, মৃত ত্বিশা শর্মার ব্যবহৃত আইফোন থেকে প্রয়োজনীয় ডেটা পুনরুদ্ধার এবং তার ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এই মোবাইল ফোনটির ডিজিটাল ডেটা মামলার গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল সত্য সামনে আনতে এবং নতুন সাক্ষীদের চিহ্নিত করতে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে তদন্তকারী দল।

একইসঙ্গে, অভিযুক্তের বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআরগুলোও বর্তমানে দিল্লির সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে (সিএফএসএল) রয়েছে। ফুটেজের সত্যতা, ধারাবাহিকতা এবং তাতে কোনো ধরনের কারসাজি বা বিকৃতি ঘটানো হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের কাজ চলছে। আদালতের মতে, এই ফরেনসিক রিপোর্টগুলোর চূড়ান্ত ফলাফল হাতে পাওয়ার আগে অভিযুক্তকে জামিনের সুবিধা দিলে তদন্ত প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

বহুল আলোচিত এই মামলায় সিবিআইয়ের তদন্ত এবং ফরেনসিক রিপোর্টের পরবর্তী আপডেট কী আসে, এখন সেটাই দেখার।