“বিগত সরকারের রাজনীতি আর নয়!” ছটপুজোয় রবীন্দ্র সরোবর খুলে দেওয়ার বড় ঘোষণা পুরমন্ত্রীর

উৎসবের মরশুমে পুণ্যার্থীদের জন্য বিরাট সুখবর! দীর্ঘ ৯ বছর পর অবশেষে কাটল আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা। চলতি বছর রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে দিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেই সঙ্গে গঙ্গার ঘাটগুলিতেও পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার হাওড়া ও কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলি পরিদর্শনের সময় এই ঐতিহাসিক ঘোষণার কথা নিশ্চিত করেন মন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং পুর-কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে।
“বিগত সরকারের রাজনীতি আর নয়!”—বিস্ফোরক পুরমন্ত্রী
ঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, বিগত সরকারের আমলে রাজনীতি করে হিন্দুদের এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসব বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার কোনও বৈষম্য হতে দেবে না।
তিনি স্পষ্ট জানান, “আমরা এবার রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তা না হলে সেখানকার মানুষ যাবেন কোথায়? তবে একটাই শর্ত—জলে নেমে পুজো শেষ হওয়ার পরপরই সমস্ত সামগ্রী তুলে নিতে হবে, যাতে জল দূষিত না হয়।”
প্রেক্ষিত: ২০১৭ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের (NGT) নির্দেশের পর থেকেই পরিবেশ সুরক্ষার কারণে রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে এই নিয়ম কার্যকর থাকার পর এবার নবান্নের পদক্ষেপে বদলে যাচ্ছে চিত্র।
পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে নবান্নের বিশেষ গাইডলাইন
ছটপুজোয় যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং ভক্তদের সুবিধার্থে একগুচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর:
বিশেষ ব্যবস্থা: ঘাট ও লেকগুলিতে চলাচলের জন্য পেভার ব্লক দিয়ে তৈরি করা হবে অস্থায়ী রাস্তা। পর্যাপ্ত আলো, বায়ো টয়লেট এবং মহিলাদের জন্য বিশেষ চেঞ্জিং রুমের বন্দোবস্ত থাকবে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা: দুর্ঘটনাস্থল ও ভিড় এড়াতে ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক (Volunteer) মোতায়েন থাকবে। একই সময়ে যাতে প্রচুর মানুষ জলে না নামেন, তা নিশ্চিত করবেন তাঁরা।
জরুরি নির্দেশিকা: দিকনির্দেশনার জন্য পুরো এলাকা জুড়ে সাইনবোর্ড টাঙানো হবে এবং প্রতি ঘাটে প্রদর্শিত হবে জরুরি সহায়তার হেল্পলাইন নম্বর।
পরিবেশ রক্ষা এবং ধর্মীয় ভাবাবেগ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই এবার ছটপুজোর গ্র্যান্ড আয়োজনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার।