‘ভগবানদের মধ্যেও তফাত?’ বাগেশ্বর ধামের চাঞ্চল্যকর মন্তব্যে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল!

ধর্মসভায় ভগবান শ্রী রামচন্দ্র এবং শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে তুলনা টেনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এলেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর ধাম সরকার। কিছুদিন আগেই একটি রাজ্যে এসে দুর্গাপুজোর সময় খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে ‘নিরামিষ সাম্রাজ্যবাদ’ সম্পর্কিত মন্তব্য করে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি করেছিলেন তিনি। আর এবার মধ্যপ্রদেশের এই স্বঘোষিত ধর্মগুরু সরাসরি দুই আরাধ্য দেবতার মধ্যে ভেদাভেদ টেনেছেন এবং জনসমক্ষে বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গিও প্রদর্শন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অন্যদিকে, রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় ফের নতুন করে জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে চর্চিত ‘শিলিগুড়ি মডেল’। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছিল এই ‘শিলিগুড়ি মডেল’। তৎকালীন সময়ে বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক কৌশলের সৌজন্যে অক্ষত ও সুরক্ষিত থেকেছিল বামেদের শিলিগুড়ি দুর্গ। সেবার তৃণমূল কংগ্রেসকে রুখতে এবং ক্ষমতার ভারসাম্যতা বজায় রাখতে প্রথা ভেঙে হাত মিলিয়েছিল বাম ও কংগ্রেস।
কিন্তু গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে এবং রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছে বিজেপি। সামনেই পুরসভার নির্বাচন, আর ঠিক তার প্রাক্কালেই ফের একবার অন্য মোড়কে ‘শিলিগুড়ি মডেল’-এর পুনরাবৃত্তির জল্পনা উস্কে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা গৌতম দেব। সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে তিনি সওয়াল করে বলেছেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যের সমস্ত অ-বিজেপি রাজনৈতিক শক্তিকে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় চলে এসেছে। ঠিক একই সুরে সুর মিলিয়েছেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্যও। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তাঁরা চান পৌরসভা থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত, বিধানসভা কিংবা লোকসভা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রধান শত্রু হিসেবে বিজেপিকে চিহ্নিত করে তাদের পরাজিত করতেই হবে।
তবে বিরোধী শিবিরের এই সমস্ত সম্ভাব্য ঐক্য ও মডেল-ভিত্তিক জল্পনা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় রাজ্যের শাসকদল বা প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি। তাদের মতে, এসব নিছকই রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।