‘আমেরিকানরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে!’ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি নিয়ে বিস্ফোরক তেহরান

আমেরিকার মিড-টার্ম নির্বাচনে রিপাব্লিকানদের শোচনীয় হার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর প্রথম অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়ায় বিস্ফোরক দাবি করলেন আমেরিকার সঙ্গে ইরানের মুখ্য মধ্যস্থতাকারী মহম্মদ বাঘার ঘালিবাফ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, মার্কিন মুলুকের এই নির্বাচনী ফলাফলের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

সাম্প্রতিক মার্কিন মিড-টার্ম নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ—সেনেট এবং হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট পদে আসীন থাকলেও ট্রাম্পকে তাঁর ক্ষমতার শেষ দুই বছরে অত্যন্ত কঠিন ও জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চলেছে।

নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কড়া বার্তা পোস্ট করে ইরানের মুখ্য মধ্যস্থতাকারী মহম্মদ বাঘার ঘালিবাফ লেখেন, “অনুশোচনা হোক কিংবা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি—কারণ যাই থাকুক না কেন, সাধারণ মার্কিনিরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের স্পষ্ট রায় দিয়েছেন। আমরা আমেরিকার জনগণের এই অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন জানাই। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে যারা ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছে, তাদের কথায় যদি মার্কিন সরকার মানুষের এই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করে, তবে তাদের বুঝতে হবে যে তেহরানের পক্ষ থেকে ‘না’ শোনার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে এক চরম দুঃস্বপ্নের মতো হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের মিড-টার্ম নির্বাচনে শুধু কংগ্রেসের দুই কক্ষের দখল হাতছাড়া হওয়াই নয়, বরং রিপাব্লিকানদের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী ও শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনেও বড়সড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে মাত্র দুই বছর দেশ শাসনের পরেই রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা খেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে, ইরানের বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার একরোখা মনোভাব এবং কঠোর অভিবাসন নীতির পর এই নির্বাচনী বিপর্যয় যে ট্রাম্পের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তির, তা বলাই বাহুল্য। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে সমস্ত অঞ্চল থেকে ট্রাম্প বিপুল পরিমাণে জনসমর্থন পেয়েছিলেন, ঠিক দু বছরের মাথায় এই মিড-টার্ম নির্বাচনে সেই সমস্ত অঞ্চলেই সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে হামলা চালায়। ইজরায়েলি হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় সরকারি পদাধিকারী নিহত হন। এর বদলা নিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকার বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে জোরালো হামলা চালায় ইরান। এমনকি হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল চাপ তৈরির কৌশল নেয় তেহরান। এর জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে।

এদিকে, মিড-টার্ম নির্বাচনে দলের এই ভরাডুবি ও বিপর্যয়ের পর খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করে নিয়েছেন যে নির্বাচনে খারাপ ফল করার অন্যতম প্রধান কারণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, এই ধরনের নির্বাচনী ফলাফল আসার পেছনে ইরান নীতি একটি বড় কারণ হতে পারে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলি সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রসঙ্গত, ফক্স নিউজের সাম্প্রতিক সমীক্ষাতেই জোরালোভাবে উঠে এসেছিল যে ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধ এবং তার প্রভাবে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধির জেরে ভোটারদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ জমছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এবারের ব্যালট বাক্সে।