গণতন্ত্র বাঁচাতে ধুন্ধুমার লড়াই! জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এসআইআর বাতিলের দাবিতে এবার রাজপথে ইন্ডিয়া জোট

ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে এবার কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে এক বিশাল প্রতিবাদী আন্দোলনের ডাক দিল ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। আগামী বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর বেঙ্গালুরুর ঐতিহাসিক ফ্রিডম পার্কে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বিরোধী জোটের জোরালো অভিযোগ, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল করা হচ্ছে। তাই অবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল এবং সিইসি-র পদত্যাগের দাবিতে তারা আন্দোলন আরও তীব্র করার হুংকার দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (KPCC) কার্যালয়ে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা বি কে হরিপ্রসাদ। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোট যে প্রতিবাদ আন্দোলনের সূচনা করেছিল, বেঙ্গালুরুর এই ৫ নভেম্বরের বিক্ষোভ সমাবেশ তারই পরবর্তী ও সম্প্রসারিত অংশ। রাজধানী দিল্লির পর এবার দক্ষিণের মাটিতেও মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্যের সুর চড়াতে চাইছে জোট নেতৃত্ব। হরিপ্রসাদ আরও জানান, বেঙ্গালুরুর এই রাজ্য স্তরের বিক্ষোভ সফল করার পর গোটা কর্ণাটক রাজ্য জুড়েই জোরদার প্রচার চালানো হবে। পরবর্তীতে এই আন্দোলনকে আরও নিচের স্তরে নিয়ে গিয়ে জেলা ও তালুক স্তরেও লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত থেকে সিইসি নিয়োগ প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেন সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক কে প্রকাশ। তিনি জোরালো দাবি জানান যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি আরও বেশি গণতান্ত্রিক করতে হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি, সিইসি-কে প্রদান করা স্থায়ী আইনি রক্ষাকবচ অবিলম্বে প্রত্যাহার করারও দাবি তোলেন তিনি। কে প্রকাশ বলেন, “আমাদের মূল ও প্রধান দাবি তিনটি—অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করা, বিতর্কিত সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইনকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক করা।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে শুধুমাত্র কংগ্রেস বা সিপিআই(এম) নয়, বরং সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং সিপিআই(এমএল)-সহ ইন্ডিয়া জোটের অন্তর্ভুক্ত একাধিক সমমনস্ক রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় স্তরের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্তরেও বিজেপি বিরোধিতাকে সংঘবদ্ধ করতে এই ধরনের যৌথ কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী ৫ নভেম্বর ফ্রিডম পার্কের এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বিরোধী দলগুলি কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কতটা তীব্র বার্তা দেয় এবং সাধারণ মানুষের কতটা সমর্থন আদায় করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।