“তিন কোটি লোক কোথায় গেল?” কলকাতায় পা রাখতেই মমতা-রাহুলকে এক কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে স্মৃতির বিস্ফোরক আক্রমণ!

দিল্লিতে বিরোধীদের ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির পাল্টা জবাব দিতে এবার খোদ তিলোত্তমায় সরব হলো বিজেপি। মঙ্গলবার অল ইন্ডিয়া বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-এর বিশেষ কর্মসূচিতে যোগ দিতে কলকাতায় আসেন বিজেপির শীর্ষ নেত্রী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। আর কলকাতায় পা রেখেই তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসকে একই ব্র্যাকেটে দাঁড় করিয়ে একযোগে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন তিনি।

সম্প্রতি দিল্লির রামলীলা ময়দানে তথাকথিত ‘এসআইআর’ (SIR) বিরোধী বিক্ষোভ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মেগা সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সেই মঞ্চে একই ফ্রেমে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবও। দিল্লিতে মমতা-রাহুলের এই সমীকরণকে কেন্দ্র করেই সুর চড়িয়েছেন স্মৃতি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরোনো বয়ান মনে করিয়ে দিয়ে স্মৃতি ইরানি এদিন বলেন, “যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তা নিয়ে আমি স্পষ্ট কিছু তথ্য তুলে ধরতে চাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই একসময় বলেছিলেন যে এরা দিল্লি লুটেছে এবং এবার পশ্চিমবঙ্গ লুট করতে চায়।”

ভোটার তালিকার অসঙ্গতি ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গেও রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন এই বিজেপি নেত্রী। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “প্রায় তিন কোটি মানুষ ‘অ্যাবসেন্ট’ বা অনুপস্থিত রয়েছে। সেই লোকগুলো আসলে কোথায় আছে, তা জানার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তৃণমূল কিংবা কংগ্রেসের কেন নেই? আমরা তো স্বচক্ষে দেখেছি কীভাবে তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে।”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বুথ স্তরের আধিকারিকরা (BLO) প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে অন্তত তিনবার করে গিয়েছেন এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কাজ করেছেন। তা সত্ত্বেও বিরোধীরা রাজনৈতিক কায়েমি স্বার্থে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

দিল্লির মঞ্চে কংগ্রেস-তৃণমূল একজোট হয়ে প্রতিবাদ করলেও, বাংলায় স্মৃতির এই জোড়া আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর তৈরি করেছে।