“একদিকে আপনি, একদিকে আমি, বিচারক মোহন ভাগবত!” সরাসরি ওপেন ডিবেটে মোদীকে বিরাট চ্যালেঞ্জ রাহুলের

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের পারদ চড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এক মঞ্চে ওপেন ডিবেটে বা খোলামেলা বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তিনি। দেশদ্রোহিতা, বিদেশি তহবিল (Foreign Funding), আর্থিক চুক্তি এবং বিতর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কোনো রাখঢাক না করে সরাসরি মুখোমুখি বসার আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।

এদিন একটি গোলাপ হাতে নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “আপনি (প্রধানমন্ত্রী) তো আমাদের দেশদ্রোহী বলেছেন। তাহলে এবার সাহস দেখান। যেকোনো মঞ্চ বেছে নিন, জায়গা ঠিক করুন। আমার সঙ্গে বিতর্কে যোগ দিন। দেশদ্রোহী আসলে কে, কার সাথে বিদেশি শক্তির কী ধরনের যোগাযোগ রয়েছে—সব পরিষ্কার হয়ে যাক।”

বিতর্কের রূপরেখা কেমন হবে, তারও প্রস্তাব দিয়েছেন রাহুল। তিনি বলেন, “ভয় পাবেন না। দুজনে সামনাসামনি বসবো। সামনে মিডিয়া থাকবে, দেশের যুবসমাজ থাকবে। এক টেবিলে একদিকে আপনি থাকবেন, অন্যদিকে আমি থাকব। যাকে খুশি বিচারক বানিয়ে নিন—প্রয়োজনে মোহন ভাগবতজিকে বসিয়ে দিন। কোনো আপত্তি নেই।”

প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করে রাহুল আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি কেন হলো, কীভাবে এত দ্রুত হলো, কেন মন্ত্রিসভাকে না জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এবং আদানির মামলা কেন বন্ধ হয়ে গেল—এই সমস্ত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে প্রকাশ্য মঞ্চে খোলামেলা আলোচনা হোক। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, মানহানির মামলা তো বহু করেছেন, এই বিতর্কের চ্যালেঞ্জেও আসুন, সেখানেও সব নিয়ে কথা হবে। শেষে প্রধানমন্ত্রীকে শুভ দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন রাহুল গান্ধী।

সংসদে ঘুমন্ত ছবি ও পোস্টার বিতর্ক: এদিকে রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই রাহুল গান্ধীকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সংসদের ভেতরে তাঁর একটি ঘুমন্ত ছবি ভাইরাল হওয়ার পর এবার কলকাতার সল্টলেক ও করুণাময়ী চত্বরে সেই ছবি দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার লাগানো হয়েছে। “দেশের নেতা কি এমনই হওয়া উচিত?”—এই প্রশ্ন তুলে কে বা কারা এই পোস্টারগুলো সাঁটিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।