ইউপিআই আইডি দিয়ে টিকিট বাণিজ্য? রাহুল গান্ধীর কাছে বিস্ফোরক মেল পাঠাতেই কংগ্রেসের অন্দরে ধুন্ধুমার!

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসে (UP Congress) আছড়ে পড়ল এক বিরাট আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ। রাজ্যে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন-চার্জ রাজেন্দ্র পাল গৌতমের বিরুদ্ধে সরাসরি টিকিট ও দলীয় পদ বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, প্রমাণ হিসেবে লেনদেনের একাধিক ‘ইউপিআই আইডি’ (UPI ID) উল্লেখ করে দলীয় সাংসদ ও প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস হাইকমান্ডকে একটি ইমেল পাঠানো হয়েছে, যা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ইমেলে ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ‘৫০ লাখ’ টাকার লেনদেন: সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ওই গোপন ইমেলে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইন-চার্জ রাজেন্দ্র পাল গৌতমের কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত বিনয় গৌতম ও সোনু গৌতম নিজেদের তাঁর নিকটাত্মীয় ও ব্যক্তিগত সহকারী (PA) পরিচয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন।
দলীয় পদ, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের টিকিটের বিনিময়ে তাঁরা টাকা নিচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারী বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে জানিয়েছেন, এক জায়গায় অগ্রিম হিসেবে ৫০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে, আবার অন্য জায়গায় ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থাৎ ইউপিআই-এর মাধ্যমে লেনদেন সম্পাদন করা হয়েছে।
“ওরা জোচ্চোর, কাউকে টাকা দেবেন না”— সাফাই রাজেন্দ্র পাল গৌতমের: এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ব্যাকফুটে পড়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবে সমস্ত অভিযোগ একবাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন ইউপি কংগ্রেস ইন-চার্জ রাজেন্দ্র পাল গৌতম। তিনি দাবি করেছেন, কংগ্রেস দল কখনোই পদের বা টিকিটের বিনিময়ে টাকা লেনদেন করে না।
প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “যদি কেউ আমার নাম ভাঙিয়ে বা আমার আত্মীয় পরিচয়ে টাকা দাবি করে, তবে তাঁরা সম্পূর্ণ প্রতারক। এই ধরনের কোনো ফোন কল বা প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে অবিলম্বে অভিযোগ জানান।”
রাজনীতিতে চরম জল্পনা ও প্রশ্নের মুখে দলিত ভোটব্যাঙ্ক: উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান এমনিতেই বেশ দুর্বল। তার ওপর দল যখন আগামী নির্বাচনের জন্য নতুন করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ‘ক্যাশ ফর টিকিট’ বা টিকিট বিক্রির কেলেঙ্কারি দলের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিল। উল্লেখ্য, রাজ্যে হারানো দলিত ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই রাজেন্দ্র পাল গৌতমকে দায়িত্ব দিয়েছিল হাইকমান্ড। কিন্তু বর্তমানে এই কেলেঙ্কারির ঘটনায় সেই পুনরুজ্জীবনের চেষ্টাই মারাত্মক প্রশ্নের মুখে পড়ল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, টিকিট বিক্রির অভিযোগ নতুন কিছু নয়, তবে সরাসরি রাহুল গান্ধীকে ইমেল পাঠিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের ইউপিআই তথ্য পেশ করায় বিষয়টির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। এখন কংগ্রেস হাইকমান্ড এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেয় না কি বিষয়টি ধামাচাপা দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।