সপ্তম পে কমিশন চালুর আগেই ফের বাড়ছে ডিএ? সরকারি কর্মচারীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মেগা ঘোষণা!

পুজোর মরশুমে অক্টোবরের অগ্রিম বেতন এবং ২০ শতাংশ বর্ধিত ডিএ (DA) পাওয়ার পর এবার রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের নজর সপ্তম বেতন কমিশনের (7th Pay Commission) দিকে। নতুন পে কমিশন কবে থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে এবং তার আগে মহার্ঘ ভাতা আর একপ্রস্থ বাড়বে কি না— এই নিয়ে কর্মী মহলে জোর চর্চা চলছে। ঠিক এমন এক আবহেই সপ্তম বেতন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদান নিয়ে রাজ্য সরকারের স্পষ্ট বার্তা সরকারি কর্মচারীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সপ্তম পে কমিশন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিমধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ আইএএস কর্মকর্তা নবীন প্রকাশের নেতৃত্বে গঠন করা এই কমিশনের অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী বড় বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, “সিনিয়র আইএএস নবীন প্রকাশের নেতৃত্বে আমরা ক্ষমতা এসেই সপ্তম পে কমিশন তৈরি করে দিয়েছি। এখন কেবল তা চালুর অপেক্ষা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় সমস্ত রাজ্যেই ইতিমধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হয়ে গিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার অষ্টম বেতন কমিশনের দিকে এগোচ্ছে। ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া বা এরিয়ারের ঝামেলা এড়াতে কমিশন গঠনের কাজ দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে।

কবে থেকে লাগু হতে পারে নতুন বেতন কমিশন? প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যে ষষ্ঠ বেতন কমিশন বা ‘রোপা ২০১৯’-এর মেয়াদের সময়সীমা শেষ হয়েছে গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে। সাধারণত ১০ বছর অন্তর বেতন কমিশন গঠন ও বাস্তবায়নের প্রথা রয়েছে। সেই গণনায় ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার কথা।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কর্মচারী মহলকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আমরা সপ্তম পে কমিশনের রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা দ্রুত কার্যকর করব। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।”

ডিএ-র ফারাক মেটানোর আশ্বাস: সপ্তম পে কমিশন চালুর অপেক্ষার মাঝেই জল্পনা বাড়ছে যে, কমিশন চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগেই সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র আরও এক দফায় বৃদ্ধি হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের মহার্ঘ ভাতার যে ব্যবধান রয়েছে, তা খুব শীঘ্রই মিটিয়ে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর নতুন পে কমিশন বাস্তবায়নের আগে আবারও ডিএ বৃদ্ধির সম্ভাবনা উসকে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক অলিন্দে।